উজানে বৃষ্টিপাত ও ওই বৃষ্টির পানি নেমে আসায় দিনাজপুরের প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার দুপুরে তা কমে এসেছে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে নদীর পানি প্রবাহ আরও কমে যাবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়। অবশ্য হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
শুক্রবার দুপুরে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করলেও জেলার ছোট যমুনা ও পুনর্ভবা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার একটু নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর তীরবর্তী বসবাসকারী পূর্ব দপ্তরীপাড়ার কয়েক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে বাসিন্দারা।
এদিকে, আত্রাই নদীর পানি বাড়ায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় নদী তীরবর্তী খানসামার ১৪টি গ্রাম। হঠাৎ কয়েক এলাকায় পানি প্রবেশে পাট, ধানসহ শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে।
খানসামার আত্রাই সেতু পাড়ে দেখা যায়, নদীর পানি বাড়ায় চিন্তিত রয়েছে নদীপাড়ের মানুষ। খানসামা উপজেলার চাকিনীয়া ঠুটির ঘাট, শুড়িগাঁও, আগ্রা দুপরুরঘাট, আশার ডাঙ্গা, গুলিয়ারা শিবতলা, জোয়ার, কালীর বাজার, কায়েমপুর, জোয়ার, নেউলা, গোবিন্দপুরসহ কয়েক এলাকায় নদী ভাঙন ও বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করছে। এতে নির্ঘুমভাবে রাত কাটাচ্ছেন আত্রাই নদী তীরবর্তী ওইসব এলাকা ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ার সাথে নদীর পানি কমে যাবে। খানসামা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হাসান বলেন, নদীর পাড়ের মানুষের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১২টায় দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার মাহাবুব আলম জানান, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর পানি ৩৩ দশমিক ৫০০ মিটার বিপদসীমা থাকলেও ৩১ দশমিক ৭০ মিটার, আত্রাই নদীর পানির বিপদসীমা ৩৯ দশমিক ৬৫০ থাকলেও ৩৯ দশমিক ৩৫ মিটার এবং ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা ২৯ দশমিক ৯৫০ হলেও ২৬ দশমিক ৪৮ মিটারে রয়েছে। তবে আত্রাই নদীর পানি দুপুরের পর থেকে কমতে শুরু করেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।