বেনাপোল স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশনে ভারত ফেরত এক পাসর্পোটধারী যাত্রীর শরীরে করোনা পজিটিভ সনাক্ত হয়েছে। শনিবার (০৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ করোনা পজিটিভ যাত্রীর খবর পেলে তাকে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য কর্মীদের হাতে তুলে দেয়।
করোনা আক্রান্ত যাত্রীকে নিরাপদে রাখতে ইমিগ্রেশন থেকে যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এনিয়ে গত এক বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জনের মত বাংলাদেশি যাত্রী ভারতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরলো।
বেনাপোল ইমিগ্রেশেন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার সুভাশিষ রায় জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী অঞ্চলের করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি গত মাসে চিকিৎসার জন্য পরিবারকে সাথে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার শর্ত মানতে দুই দিন আগে কলকাতার একটি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করালে সেখানে ফলাফল পজিটিভ আসে। পরে তিনি দেশে ফেরার ঠিক আগ মুহূর্তে ভারতের পেট্রোপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ কাগজ পত্রে করোনা পজিটিভ দেখতে পেয়ে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের হাতে তুলে দেয়।
এদিকে ভারত ফেরত যাত্রী করোনা পজিটিভ খরব ছড়িয়ে পড়লে ইমিগ্রেশন ভবনে অবস্থানরত পাসপোর্টধারী যাত্রীসহ সর্বসাধারণের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সবার মধ্যে নানান সতর্কতামুলক ব্যবস্থার তোড়জোড় দেখা যায়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আহসান হাবিব জানান, দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক ব্যবহারসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সব সময় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে।
জানা যায়, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিরোধে দুই দেশের সরকার বিভিন্ন সচেতনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ভারত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে গত বছরের ১৩ মার্চ দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হলে টানা ৫ মাস পর গত বছরের ১৪ আগস্ট থেকে শর্ত সাপেক্ষে শুধু মেডিকেল, বিজনেস আর কূটনৈতিক ভিসা সচল করা হয়। এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারত ভ্রমণ। বর্তমানে ভারত প্রবেশে আরটিপিসিআর থেকে ৭২ ঘণ্টা মধ্যে পরীক্ষা করানো নেগেটিভ সনদ লাগছে। ভারত থেকে ফেরার সময়ও একই নিয়ম সব দেশের যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য বলে জানা যায়।