একদিন পরই ঈদুল আজহা। এরইমধ্যে রাজধানীতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। চলছে শেষ মুহূর্তের দর কষাকষি ও বেচাবিক্রি। তবে বাড়তি দামের কারণে পছন্দের পশুর নাগাল পাচ্ছেন না অনেকেই। ক্রেতারা বলছেন, এ বছর রাজধানীর প্রায় প্রতিটি হাটে বাড়তি দাম হাঁকাছেন বিক্রেতারা। আর বিক্রেতারা বলছেন, গো-খাদ্যের উচ্চ মূল্যের কারণে দাম বেশি। এবার বিক্রি কম। তবুও ছাড় দিতে নারাজ তারা। রাজধানীর ২১টি পশুর হাটে এবার আগে ভাগেই উঠছে কোরবানির পশু। গত বুধবার থেকে শুরু হয় বেচাবিক্রি।
তবে হাটে প্রথমদিনে ক্রেতা থাকলেও তেমন একটা বিক্রি হয়নি। অনেকেই দরদাম করে খালি হাতে ফিরে গেছেন। গতকাল ক্রেতা সমাগম বাড়লেও বাড়েনি বেচাবিক্রি। তবে ওজনের সঙ্গে দরদাম মেলাতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন অনেকেই। রাজধানীর আফতাবনগর পশুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে ১৩টি গরু নিয়ে আসেন রিপন মেম্বার। হাট শুরুর দুই দিনেও বিক্রি হয়নি কোনো গরু। এ নিয়ে চিন্তিত তিনি। ক্রেতা আসছেন, দেখছেন, দারদাম করে চলে যাচ্ছেন। বিক্রি হচ্ছে না। কথা হলে তিনি বলেন, ভালো দামের আশায় কুষ্টিয়া থেকে ১৩টি গরু নিয়ে আসলাম।
এরমধ্যে ৯টি আমার পালিত গরু। বেশি লাভের আশায় অন্য ৪টি গৃহস্থের কাছ থেকে কিনে এনেছি। একটা গরুও এখনো বিক্রি করতে পারিনি। লাভ তো ভালো কথা, আমার কেনা দামও বলছে না কাস্টমার। কাস্টমারা বলছেন দাম নাকি বেশি চাচ্ছি। গরুর খাদ্যের দাম বেশি থাকার কারণে এবার হাটে দাম বেশি। হাটেও অনেক গরু উঠছে। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। আশা করি, আজকালের মধ্যে বিক্রি করতে পারবো। অল্প লাভ হলেই গরু ছেড়ে দেবো। রাজধানীর অন্যান্য পশুর হাটেও একইচিত্র। ।
এদিকে গত কয়েকদিন মাঝারি গরুর চাহিদা থাকলেও ধীরে ধীরে বড় গরুর দিকে নজর পড়ছে ক্রেতাদের। ২ লাখ বা এর কম দামের পশুর প্রতি ঝোঁক বেশি ক্রেতাদের। তবে বড় গরুর দাম জানার আগ্রহ ক্রেতাদের। কবির হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত গরু আছে। সব গরুই পছন্দ হওয়ার মতো। বড় ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। এসব কোরবানি পশুর ওজনের সঙ্গে দামের পার্থক্য অনেকে বেশি। অন্যন্য বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি দাম চাচ্ছেন বিক্রেতারা। এতে অনেকেই গরু কিনতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। সবাই চাচ্ছেন একটু কম ভালো গরু।
এজন্য ঘুরে ঘুরে দেখছেন। হাতে যেহেতু ১/২ দিন সময় আছে। গরুর দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। গাবতলী পশুর হাট থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছেন গেণ্ডারিয়ার বাসিন্দা সামিউল ইসলাম। তিনি বলছেন, এবার গরুর দাম অনেক বেশি। গরুর ব্যাপারি ও গৃহস্থরা সহজে গরু বিক্রি করতে চাচ্ছেন না। এবার ২ লাখ ৯০ হাজার টাকায় যে আকারের গরু কিনেছি, গত বছর এটার দাম আরও এক লাখ কম ছিল। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে গাবতলীর হাটে গরু এনেছেন শমসের ব্যাপারী। তিনি একটি গরুর দাম হাঁকছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। মিরপুর থেকে আসা ক্রেতা সাইদুর রহমান ১ লাখ টাকা দাম বললেও গরুটি বিক্রি করতে রাজি হননি শমসের ব্যাপারী। অথচ মাংসের বাজারদর হিসেবে গরুটির দাম ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা হওয়ার কথা।
গাবতলী হাটে সাহে আলম নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ব্যাপারী ও গৃহস্থরা গরুর দাম বাড়তি চাচ্ছেন। বিক্রি হচ্ছে না, তবুও তারা গরু আঁকড়ে ধরে আছে। ওজন হিসেবে ন্যায্যমূল্য বললেও তারা গরু ছাড়ছেন না। চুয়াডাঙ্গার আনিস ব্যাপারি বলেন, এ বছর গো-খাবারের দাম বাড়তি। স্থানীয় হাটবাজারেও গরুর দাম বেশি। বেশি দামে কিনতে হয়। সেইসঙ্গে ঢাকায় আনতে একেকটি গরুর পেছনে পরিবহন খরচ আরও দুই হাজার টাকা করে পড়ে। সব মিলিয়ে গরু প্রতি ২/৩ হাজার টাকা ব্যবসা না করলে এতো কষ্ট করে লাভ কী!