ফেনীতে ছোট বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় রবিউল হক সায়েদ (২১) নামে এক যুবকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বখাটেরা।
শুক্রবার (৩০ জুন) সন্ধ্যার দিকে ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সায়েদ শুভপুরের পূর্ব জয়পুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে। আটকদের সবার বাড়ি শুভপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামে। তদন্তের স্বার্থে আটকদের নাম পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ছোট বোনসহ শমসের গাজীর দীঘি এলাকায় ঘুরতে যান সায়েদ। সেখানে ১০-১২ জন বখাটে তার বোনকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করে। প্রতিবাদ করলে তারা দলবদ্ধভাবে সায়েদের ওপর হামলা করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিদোয়ান আলম বলেন, ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য ইউপি সদস্য সজীব ফোন দিয়ে সায়েদকে ডেকে আনেন। সেখানে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোতাহের মেম্বারসহ বসার পর কথাবার্তার একপর্যায়ে বখাটেরা সায়েদের সঙ্গে বাগ বিতণ্ডায় জড়িয়ে যায়। মুহূর্তেই সৌরভ নামে এক বখাটে সায়েদকে ঝাপটে ধরে বুকে ছুরিকাঘাত করে। এতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। স্থানীয়রা সায়েদকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বোন সায়েরা আক্তার সাথী জানান, আমার ভাই সায়েদসহ পরিবারের সদস্যরা মিলে বিকেলে ঘুরতে যাই। সেখানে ছবি তোলার সময় কিছু ছেলে আমাকে উদ্দেশ্য করে খারাপ মন্তব্য করে। পরে ভাই প্রতিবাদ করলে ১০-১২ জন বখাটে তাকে মারতে ঘিরে ধরে। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিষয়টি নিয়ে সজীব মেম্বার ডেকে এনে বৈঠকে বসে তারা। চম্পকনগর নর্দমা এলাকা এ ঘটনার সূত্রপাত হলেও শুভপুর বাজারে তারা আমার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে। আমি তাদের চেহারা চিনব, তবে নাম জানি না।
ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শোয়াইব ইমতিয়াজ নিলয় জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। তার বুকে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদ্বীপ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।