ads
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান নোয়াখালী: হাজতখানাকে বিয়ে বাড়ি বানালেন দুই আ.লীগ নেতা! মিউজিক্যাল ফিল্মে সুনেরাহ পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন ফ্যাসিস্ট আমলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি: লুটপাট ভয়াবহ আদানির চুক্তি রাষ্ট্রবিরোধী শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সাবেক স্বামী গ্রেফতার বিসিসির সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোনারগাঁয়ে যুবলীগের নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার জকসু নির্বাচন: ভোট গণনা স্থগিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিচারককে গালাগালির ভিডিও অপসারণের নির্দেশ হাইকোর্টের

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ৪৩ বার পঠিত

বিচারকের সাথে আওয়ামী আইনজীবীদের অসদাচরণের ঘটনা আড়াল করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ফারুককে গালাগালের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অপসারণ করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৭ই জানুয়ারি) হাইকোর্টের আওয়ামী বিচারক জে বি এম হাসান ও রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

অপর দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী আইনজীবীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকিরের নেতৃত্বে সিনিয়র আওয়ামী আইনজীবীরা।

আওয়ামী আইনজীবীরা বিচারকদের এজলাসে বসা অবস্থায় প্রকাশ্যে গালাগালি করেন। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়াই নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে অহরহ।

বিচারকদের কোন আদেশ বা রায় আওয়ামী আইনজীবীদের ইচ্ছার বাইরে গেলে গালাগালি করে হুমকি দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের চোখে সামনে আসে বিচারকদের সাথে আওয়ামী আইনজীবীদের অসদাচরণের বিষয়টি।

এছাড়া গালাগালি ও হুমকির শিকার বিচারক সুপ্রিমকোর্ট রেজিস্টারের নিকট চিঠি দিয়ে ঘটনার প্রতীকার ও বিচার চেয়েছেন। কতটা অসহায় হলে একজন বিচারক ঘটনার জন্য উচ্চ কতৃপক্ষের নিকট বিচার চায় সেটা এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।

সুপ্রিমকোর্টের বিচারকরা আওয়ামী আইনজীবীদের অসদাচরণকে আড়াল করতেই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি প্রত্যাহারের জন্য টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে আদালতের তলবের প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানভীর আহমেদ ভূঞা, সম্পাদক (প্রশাসন) মো: আক্কাস আলী ও জুবায়ের ইসলাম হাইকোর্টে হাজির হন।

তাদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল, শাহ মঞ্জুরুল হক, সাঈদ সাঈদ আহমেদ রাজাসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে দুই মাস সময় চান আইনজীবীরা। পরে আদালত ১৪ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেন। ওই দিন তিন আইনজীবীকে আবারও আসতে বলা হয়েছে।

শুনানিতে আদালত বলেন, এর আগে খুলনা-পিরোজপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে না পারলে বিচার বিভাগ থাকবে? রাষ্ট্র থাকবে? আমরা থাকবো? যে ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে এটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। এর আগে আমরা নমনীয় ভাব দেখিয়েছি। এছাড়া এবার নমনীয় ভাব দেখানো হবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুককে গালিগালাজ করার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ তিনজনকে ৫ জানুয়ারি তলব করেন হাইকোর্ট।

একইসাথে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

হাইকোর্ট বিভাগ এবং জেলাজজ আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকরাই শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার অন্যতম সহায়ক শক্তি। আইনের তোয়াক্কা না করে শেখ হাসিনাকে খুশি রাখতে আওয়ামী আইনজীবীদের চাহিদা অনুযায়ী আদেশ দেন বিচারকরা। আওয়ামী আইনজীবীদের কায়েমি স্বার্থে কিঞ্চিৎ আঘাত লাগলেই এখন বিচারকদের প্রকাশ্যে নাজেহাল করছে এজলাসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতের ঘটনাই আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে দেশের বিচার বলতে কি চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২রা জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে ‘এজলাসে আদালতের বিচারক ও কর্মচারীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের জন্য আদালত অবমাননার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রার্থনা’ শীর্ষক একটি চিঠি পাঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের-১ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ফারুক।

এজলাস চলাকালে বিচারককে হুমকি-ধামকি ও গালাগালির সেই ভিডিওটি এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি ১ জানুয়ারির।

ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানভীর ভূঁইয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী বিচারক মোহাম্মদ ফারুককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন।

তানভীর ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ওয়ালি উল্লাহ
নির্বাহী সম্পাদক
নিউজ রুম :০২-৯০৩১৬৯৮
মোবাইল: 01727535354, 01758-353660
ই-মেইল: editor@sristybarta.com
© Copyright 2023 - SristyBarta.com
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102