অনলাইন ডেস্কঃ ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির নিজস্ব নথিতে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ এই ১০ বছরে তাদের উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ এবং একই সময়ে তাদের মুনাফা বেড়েছে পাঁচগুণ। জটিল কর কাঠামোর কারণে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তামাক কোম্পানির মুনাফা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়ছে এবং তামাক কোম্পানির কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থেকে যাচ্ছে।
শনিবার (২২ মে) তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবিতে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও এইড ফাউন্ডেশন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিএনটিটিপির প্রকল্প ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, প্রতিবছর জাতীয় বাজেটে ‘রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে’ তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ ও এর ওপর কর আরোপ করা হয়। কিন্তু করারোপের পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটি যেমন প্রত্যাশা মতো রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে পারে না তেমনি তামাকের ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিয়ে আনতে পারে না। আমাদের দেশে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্যের ওপর শতাংশ হারে (অ্যাড ভেলোরেম পদ্ধতিতে) সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়। করারোপের এই পদ্ধতিটি জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ। এই কারণে তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়লেও তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেমন কাঙ্ক্ষিত হারে কমছে না, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে না। ফলে তামাক কোম্পানির মুনাফা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী তামাক কর ব্যবস্থা বলবৎ রয়েছে বিশ্বের এমন ১৪৩টি দেশের মধ্যে ৭৫ দশমিক ৫ ভাগ (১০৮ টি) দেশে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কোনো না কোনোভাবে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে করারোপ করা হয়। এর মধ্যে ৫০টি দেশে শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট কর এবং ৫৮টি দেশে মিশ্র (সুনির্দিষ্ট ও অ্যাডভেলোরেম এক্সাইজ) করারোপ ব্যবস্থা রয়েছে। শুধুমাত্র অ্যাডভেলোরেম পদ্ধতিতে করারোপ করা হয় ৩৫টি দেশে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং নেপালও সুনির্দিষ্ট করারোপ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে। আবার ১৪৩ দেশের মধ্যে ১১৫ টি দেশে মূল্য স্তরবিহীন কর ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এ বছরেও আমরা আসন্ন বাজেট লক্ষ্য করে সব ধরণের তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করেছি। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং তামাকের ব্যবহার কার্যকরভাবে কমিয়ে আনতে ‘২০২১-২২ অর্থবছর’ থেকে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন হিল্লোল।
তাদের দাবি, তামাকজাত দ্রব্যের উপর্যুক্ত মূল্য বৃদ্ধি এবং করারোপের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ১১ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দেবে এবং ৮ লাখ তরুণ নতুন করে ধূমপান শুরুতে নিরুৎসাহিত হবে। পাশাপাশি ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে ৮ লাখ তামাক ব্যবহারকারীর জীবন রক্ষা হবে। একইসঙ্গে রাজস্ব আয় প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বাড়বে। তাই আমাদের দাবি উপর্যুক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যে করারোপ করুন, এতে মানুষের জীবন বাঁচবে, রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলেও লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন।
©Jagonews