ভাঙা হলো স্কুলে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা প্রাচীর। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পবার ভুগরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তৈরি করা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। এসময় পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার উপস্থিত ছিলেন।
পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার জানান, রবিবার জয়নাল ও পলাশ কথা দিয়েছিল তারা প্রাচীর ভেঙে সরিয়ে নেবে। তার অংশ হিসেবে সকালে প্রাচীর ভাঙা হয়। এখন শিক্ষার্থীরা অবাধে চলাফেরা করতে পারছে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার ভুগরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঈদের ছুটির পর রবিবার স্কুলে এসেছিল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কিন্তু দেয়াল টপকে কেউ ভেতরে যেতে পারেননি। কারণ স্কুলটির প্রবেশ গেটে প্রাচীর দিয়েছেন পবা উপজেলার নওহাটা পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক জয়নাল হোসেন। এ কারণে ক্লাশ না করেই ফিরে যায় ১৩৯ শিক্ষার্থী। সোমবার সকালেও ছিল এই অবস্থা। পরে স্থানীয় প্রশাসন প্রাচীরটি ভেঙে দিলে আবারও ক্লাসে ফিরতে পারে শিশু শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, স্কুলটির সাবেক সভাপতি ও নওহাটা পৌরসভা যুুবলীগের আহ্বায়ক জয়নাল হোসেন ও স্থানীয় পলাশের জমি আছে ওই স্কুলটির আশেপাশে। স্কুলের গেট বরাবর জয়নালের জমি। আর পাশে পলাশের জমি। ঈদে স্কুল ছুটি থাকার সুযোগে স্কুলের প্রবেশপথে প্রাচীর দেন জয়নাল। স্কুলটির প্রধান গেট ঘেঁষে পাঁচ ইঞ্চি ইট দিয়ে প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। আগে থেকেই স্কুলটির রাস্তা ঘিরে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ওই স্কুলটির সামনের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে বেশ কিছুদিন আগে কলার বাগানও করা হয়েছে।
স্কুলটির শিক্ষার্থী নিশাদ ও রাশিদ জানায়, ‘আমাদের স্কুলের গেটের সামনে প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। আমরা স্কুলে ঢুকতে পারছি না। তাই স্কুল বন্ধ। আমাদের খেলার মাঠে কলা বাগান করা হয়েছে। এতে করে আমরা খেলাধূলা করতে পারছি না।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুন নেশা জানান, তার স্কুলে ১৩৯ জন শিক্ষার্থী। ঈদের ছুটি থাকাকালীন প্রাচীর দিয়েছেন স্থানীয় জয়নাল হোসেন। স্কুলটির সভাপতি আয়ুব আলী জানান, আনোয়ারা বেগমের থেকে ১৯৯০ সালে তিনিসহ আরও চারজন শিক্ষক ৮০ হাজার টাকায় দুই দাগের ১৮ ও ১৫ শতক জমি কিনে নেন। এরপর সেখানে স্কুল নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে স্কুলটি সরকারিকরণ করা হয়। সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়।
যুবলীগ নেতা জয়নাল হোসেন জানান, এই জমি তার না। তিনি কিনেছেন। প্রশাসনের কথা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে জমি নিয়ে স্কুলের সঙ্গে যে বিরোধ আছে, সেটি পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানান।