আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার গতি নিয়ে ভারতের অন্ধ্র ও ওডিশা উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’। তবে ঝড়টি যে কোনো সময় গতিপথ বদলে বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের দিকেও এগোতে পারে। তাই ঝড়টির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ছানাউল হক মন্ডল জানান, বঙ্গোপসাগরে ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’তে রূপ নিয়েছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের উড়িষ্যার দিকে যাচ্ছে। ‘অশনি’র গতিপথ ভারতের অন্ধ্র-ওডিশার দিকে হলে এখনই বলা যাচ্ছে না যে- এটি কোথায় আঘাত আনবে। এর গতিপথ পরিবর্তন হবে কিনা তাও বলা যাচ্ছে না। এটি বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের দিকেও এগোতে পারে। তাই অশিনি’র গতিপথ ও এর অবস্থান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেইসাথে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ঝড়টি রোববার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারে মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছের এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মে মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুইটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে।