করোনা মহামারিতে ভারতের তরুণরা কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনিসেফ।
করোনায় ভারতের পরিস্থিতি এখন টালমাটাল। করোনার ধাক্কায় দেশটির অনেক তরুণই কাজ হারিয়ে এখন নিঃস্ব। ইউনিসেফ বলছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যেও। মুম্বাইয়ের একটি বস্তির বাসিন্দারা কাজ হারিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন পার করছেন।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, ভারতে প্রতি সেকেন্ডে চারজন করে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। প্রতি মিনিটে দু’জনের বেশি মানুষের মৃত্য হচ্ছে। এতে অনেক তরুণই কাজ হারিয়ে এখন নিঃস্ব।
ভারতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি ইয়াসমিন হক বলেন, ‘ভারতের দৈনিক নতুন সংক্রমণে ইউনিসেফ খুবই উদ্বিগ্ন। করোনার প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ প্রায় চারগুণ বেশি আর তা দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতে যা হচ্ছে তা আমাদের জন্য সতর্কঘণ্টা।’
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে অনেক বেশি যা নিয়েও উদ্বিগ্ন ইউনিসেফ। শিশুরা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও সহিংসতার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও জানান ভারতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি।
এদিকে, করোনার প্রকোপে ভারতে বস্তিবাসীদের দুরবস্থা আরো বেড়েছে। আয়-রোজগার হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে মুম্বাইয়ের আম্বুজওয়াড়ি বস্তির মানুষ।
বস্তিতে বাস করা একজন জানান, আমাদের এখন কোনও কাজ নেই। কিন্তু, আমাদের বিদ্যুৎ বিলসহ অনেক বিল দিতে হয়। আমরা ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যে আছি। আমরা হয়তো এই মহামারি থেকে বাঁচতে পারব। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে মানুষ ক্ষুধা, ওষুধ আর পানির অভাবেই মারা যাবে।
এদিকে, বস্তিবাসীর জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করতে লঙ্গরখানার ব্যবস্থা করেছে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী।
স্বেচ্ছাসেবী অখিলেশ রাও জানান, গত এপ্রিলে যখন এই শহর বন্ধ করে দেয়া হয়, আমরা বস্তিবাসীদের জন্য এটা চালু করি। যারা কর্মহীন এবং কঠিন সময় পার করছে-তাদের আমরা খাবার ব্যবস্থা করছি।