ভারতের কর্ণাটকে অবস্থিত জুনিয়র প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজের সামনে চারদিন ধরে ২৮ জন মুসলিম তরুণী অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরিধান অবস্থান প্রবেশ সুবিধা চালু রাখা। এছাড়া তারা হিজাব বাতিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ ঘটনায় পর প্রদেশটির অন্যান্য স্কুল-কলেজগুলোতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সোমবার সকালের ঘটনা, ফারহিন (ছদ্ম নাম) তার বন্ধুর সঙ্গে উদোপি জেলার কুন্দাপুর শহরের একটি নির্জন এলাকায় অবস্থিত কলেজে প্রবেশের পর হতভম্ব হয়ে গেলেন। কারণ কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে তাদের সিটে বসতে দেবে না।
ওই দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ ড্রেস কোডের নির্দেশনা দিয়ে গেটের বাইরে একটি নোটিশ ঝুলিয়ে দেন। যেখানে ক্লাসরুমে হিসাবকে নিষিদ্ধ করা হয়।
বাণিজ্য শাখার ওই শিক্ষার্থী ফারহিন আল জাজিরাকে বলেন, আমাদের শিক্ষকগণ বলেন সরকারি নির্দেশনা ছাড়া তারা আমাদের ক্লাসরুমে প্রবেশ করতে দিবেন না। একথা শোনা মাত্র সে অপমানিত বোধ করে এবং তার বন্ধুকে নিয়ে স্কুল ত্যাগ করে।
ফারহিন আরও বলেন, হিজাব পরিহিত কয়েকজন শিক্ষার্থী আলাদা একটি শ্রেণিকক্ষে বসে ছিল। সে সময়ে শিক্ষা বিভাগ থেকে কয়েকজন স্কুল পরিদর্শনে আসে এবং তাদেরকে বলে, তোমরা হিজাব পরা ছেড়ে দাও, না হলে তোমাদের শিক্ষা জীবন হারাতে হবে।
ফারহিনের বন্ধু বলেন, আমরা প্রত্যেক ইয়ারে হিজাব পরিধান অবস্থা ক্লাস করেছি। কিন্তু হঠাৎ করে এখন তারা আমাদের অপরাধী বানিয়ে দিচ্ছে এবং আলাদা ক্লাসরুমে বসার নির্দেশনা দিচ্ছে যা আমাদের কষ্ট দিচ্ছে।
কুন্দাপুর কলেজে কর্তৃপক্ষ মুসলিম মেয়েদের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা একে ধর্মীয় বিদ্বেষ বলে মন্তব্য করেছেন।
স্কুলে ড্রেস ছাড়া পরা যাবে না অন্য পোশাক, মন্ত্রীর কড়া বার্তা
‘আল্লাহু আকবর’ বলা ছাত্রীর বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগ
দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে সক্রিয় মুসলিম ছাত্রদের সংগঠন ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (সিএফআই) রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হিজাবের উপর নিষেধাজ্ঞা একটি সংগঠিত দেশব্যাপী ষড়যন্ত্র যা ডানপন্থী হিন্দুদের দ্বারা পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে। তারা মুসলিম নারীদের প্রতি অমানবিক আচরণ করছে।
এদিকে মঙ্গলবার হিন্দুত্ববাধী সংগঠনগুলো স্কার্ফ এবং পাগড়ি পরে রাজ্যের অনেক কলেজে সমাবেশ করেছে। এতে পুলিশ বাঁধা দিলে সংঘর্ষ বাধে।
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী যিনি বিজেপির নেতা তিনি হিজাব কাণ্ডে চলমান ঘটনা সামাল দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনদিনের বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, আমি সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্কুল-কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকে অনুরোধ জানাচ্ছি শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য।