নাসার রোভার পারসিভারেন্স এখন মঙ্গল গ্রহে। সেখানে আদিকালে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা জানতে সেখানকার মাটি ও পাথরের যেসব ছবি পাঠানো শুরু করেছে। রোভার পারসিভারেন্স যেসব ছবি পাঠিয়েছে তা বিশ্লেষণ করে তুরস্কের একটি হ্রদের মাটি ও পাথরের সঙ্গে মিলে গেছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এই হ্রদের নাম সালদা। পানির রংয়ে মিল থাকায় এটি ‘তুরস্কের মালদ্বীপ’ নামেও পরিচিত।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পারসিভারেন্স মঙ্গলের যে জায়গায় অবতরণ করেছে, সেই জাজেরো বেসিনের মাটি ও খনিজ এবং তুরস্কের সালদা হ্রদের মাটি ও খনিজ অনেকটা একই ধরনের।
সালদা হ্রদের মাটি ও খনিজের সঙ্গে মঙ্গলের মিল থাকা গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্বের একটা ইঙ্গিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, সালদার মাটি ও খনিজের নমুনা মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০১৯ সালে সালদা হ্রদ নিয়ে গবেষণায় নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের বিজ্ঞানীদের একটি দল। তাদের দেয়া তথ্যই হ্রদটির সঙ্গে মঙ্গলের মিল থাকার কথা জানাচ্ছে।
পদার্থের সঙ্গে মিল থাকায় মঙ্গলেও প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে এখনো অনেক গবেষণা দরকার।
এর আগে, দীর্ঘভ্রমণ শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলের বুকে অবতরণ করে নাসার মহাকাশযান পারসিভারেন্স। ছয় চাকার স্বয়ংক্রিয় রোবট যানটি পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করেছিল প্রায় সাত মাস আগে।
আগামী দুই বছর মঙ্গলে অবস্থান করে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহসহ অতীতে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা তা জানার চেষ্টা করবে নাসার এই মহাকাশযান।