করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আসন্ন রমজানে মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার মোহাম্মদপুরের তাজ জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়েরের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ বি এম গোলাম মোস্তফা এ নোটিশ পাঠান। রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের কাছে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
ব্যারিস্টার এ বি এম গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে বলেন, মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় যে নির্দেশ জারি করেছে তা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের পরিপন্থী। সাত দিনের মধ্যে সিন্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য নোটিশ দিয়েছি। অন্যাথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় আসন্ন রমজানে মসজিদে সেহরি ও ইফতারের আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে মসজিদে জায়নামাজ সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া মসজিদ কর্তৃপক্ষকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় শর্তসাপেক্ষে মসজিদে জামায়াত নামাজের জন্য আবশ্যিকভাবে শর্তগুলো পালনের জন্য অনুরোধ করছে।
শর্তগুলো হচ্ছে, মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে, সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে। ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিদের নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে। কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামায়াতে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।
সম্মানিত খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।