মাগুরায় কথামতো গতিরোধ না করায় একটি অটোরিকশার কাচ ভেঙে দেওয়ায় ঘটনা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ জনগণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ট্রাফিক পুলিশসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার মাগুরা শহরের ভায়নার মোড়ে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ নাজমুল হক একটি অটোরিকশার গতিরোধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু নির্দেশ মতো না থামিয়ে একটি দূরে গিয়ে গতিরোধ করায় কনস্টেবল নাজমুল তাকে কিলঘুসিসহ বেধড়ক পিটুনি দেওয়ার পাশাপাশি লাঠির আঘাতে অটোরিকশার কাচ ভেঙে দেয়।
এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ জনগণ ওই পুলিশ কনস্টেবলকে ঘিরে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি মারমুখী হয়ে ওঠেন। এ অবস্থায় ট্রাফিক পুলিশের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করলে দর্জি শ্রমিক মাসুমসহ ৪ জন আহত হন। এতে জনরোষের ঘটনা ঘটে। তারাও পুলিশের ওপর হামলা চালালে ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল নাজমুলসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
খবর পেয়ে সদর থানা ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাসুম, ইলিয়াস, মাহফুজ, সোহেল খান, উত্তম বিশ্বাস ও সাগর বিশ্বাস নামে ৬ জনকে আটক করে।
মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কনস্টেবল নাজমুল হক বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমিও ভুল করেছি। কাচ ভেঙে গেছে। তাদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলাম কিন্তু তারপরও সাধারণ জনগণ উত্তেজিত হয়ে মারধর করেছেন।
তবে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার অটোরিকশা ভাংচুরের ঘটনা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, একজন সাধারণ পথচারীর সঙ্গে পুলিশের ভুল বোঝাবুঝির কারণে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। সাধারণ জনগণের সঙ্গে পুলিশের মাঝে-মাঝেই এ রকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তবে এ সময় পুলিশের ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে সেটি সাধারণ জনগণের আবেগতাড়িত কোনো ঘটনা না। এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো ইন্ধন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
#যুগান্তর