মাদারীপুরে বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৬৮ কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। বুধবার (১৯ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে ব্যবসায়ীরা ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো মাদারীপুরের পরিবেশক মেসার্স লুবনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়ার পণ্য বিক্রয় বন্ধ রাখা ও সকল গোডাউন সিলগালা করার দাবি জানায় তারা।
মানববন্ধন শেষে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স লুবনা ট্রেডার্সের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। চলতি বছরের বাজেটে সিগারেটের দাম বৃদ্ধি পাবে এমন অজুহাতে আগে থেকেই তুষার ভূঁইয়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি ৩৫ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬৮ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়ে নেয়। তবে জুন মাসের মধ্যে ব্যবসায়ীদের ওই টাকার সিগারেট বুঝিয়ে দেয়ার কথা বললেও তিনি তা দেননি। এদিকে সিগারেট না দেওয়ায় টাকা ফেরত চাইতে গেলে তুষার ভূঁইয়া ব্যবসায়ীদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা করেন বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হাওলাদার বলেন, আমাকে সিগারেট দেয়ার কথা বলে ৮ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছে তুষার ভূঁইয়া। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও কোন সিগারেট তিনি দেননি। পরে আমার টাকা চাইতে গেলে তিনি আমাকে অস্ত্রের ভয় দেখায়। এই টাকা না পেলে আমি পথে বসে যাবো। আমি আমার পাওনা টাকা ফেরত চাই।
আরেক ব্যবসায়ী মনির হাওলাদার বলেন, পাওনা টাকা চাওয়ার পর তুষার ভূঁইয়া ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি ব্যবসায়ীদের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য উল্টো আমার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আমরা দ্রæত এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চাই।
এদিকে ব্যবসায়ীদের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়া বলেন, আমি শাখাওয়াত ও মনির হাওলাদারের কাছ থেকে টাকা পাই। তারা ওই টাকা না দেওয়ার জন্যই এ ধরনের অভিযোগ করছে। আমি এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আদালতেই সবকিছু প্রমাণ হয়ে যাবে।