আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোয়েন্দা সংবাদ সোসাইটি নামে একটি কার্যালয় খুলে বসেছিলেন সোয়েম আহম্মেদ ওরফে সোহেল। অফিসটি মূলত প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিভিন্ন সময় সেখানে লোকজনকে প্রলোভন দেখিয়ে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী তক্ষক কেনাবেচা করতো একটি চক্র। সেখানে গিয়ে কেউ তক্ষক কিনতে না চাইলে তার ওপর চলত নির্যাতন। কেড়ে নেওয়া হতো সঙ্গে থাকা টাকা।
তক্ষক কেনাবেচায় জড়িত একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার এসব তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন- সোয়েম আহম্মেদ, এনামুল হক, হোসেন আলী, মিজানুর রহমান ও মামুন মিয়া।
মঙ্গলবার রাজধানীর আবদুল্লাহপুর ও গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় এ অভিযান চালায় ডিবির রমনা বিভাগ। এ সময় তাদের কাছে একটি গামছা, প্লাস্টিকের লাঠি, নাইলনের রশি, ওয়াকিটকি ও অ্যান্টেনাযুক্ত ল্যান্ডফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, পুবাইল কলেজের রেলগেইট এলাকার বাঁধন সড়কে সোয়েমের কথিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোয়েন্দা সংবাদ সোসাইটির কার্যালয়। সেখানে যুগ্ম-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আড়ালে চলাতেন তক্ষক কেনাবেচার নামে প্রতারণা। লোকজনকে মোটা অঙ্কের টাকায় তক্ষক কিনতে বাধ্য করা হতো। নইলে র্যাবের হাতে তুলে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো।
এ কে এম হাফিজ আক্তার আরও বলেন, এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা হয়েছে। প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।