প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও পদত্যাগ করেছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত মুহিউদ্দিনই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন।
সোমবার (১৬ আগস্ট) মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান আব্দুল্লাহ’র কাজে পতত্যাগপত্র জমা দিতে রাজ প্রাসাদে যান প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়ামিন। দেশটির ইতিহাসের স্বল্প সময়ের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন তিনি।
মুহিউদ্দিনের পদত্যাগে পরবর্তী সরকার কে গঠন করবেন, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। কারণ, কোনো আইনপ্রণেতারই পার্লামেন্টে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। আবার করোনা মহামারির মধ্যে মালয়েশিয়ায় নতুন করে নির্বাচন হবে কি না, তাও পরিষ্কার নয়। তবে মালয়েশিয়ায় পরবর্তী দায়িত্ব কে পেতে যাচ্ছেন, তা নির্ভর করছে দেশটির রাজা আল-সুলতান আবদুল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর।
২০২০ সালে মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট দেওয়ান রাকাইয়েতের সদস্যদের ভোটে জিতে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হয়েছিলেন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। তবে তার পক্ষে ও বিপক্ষে পড়া ভোটের ব্যবধান অল্প থাকায় নিজের পদ ধরে রাখতে সারাক্ষণ চাপে ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। তার দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অন্যতম শরিক ও মালয়েশিয়ার বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনে যোগ দেয়।
এ ছাড়া করোনা মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতা, স্বেচ্ছাচারিতা, মহামারি পরিস্থিতিতে অর্থনীতি পুনর্গঠনে সঠিক নির্দেশনা দিতে না পারা এবং অযৌক্তিকভাবে রাজাকে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের বিরুদ্ধে।
জুলাইয়ের শেষে তার পদত্যাগের দাবিতে মালয়েশিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়, এর জেরে গত ৪ আগস্ট এক টেলিভিশন ভাষণে মুহিউদ্দিন ইয়াসিন ঘোষণা করেন, পার্লামেন্টের সদস্যরা তাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত কিনা, যাচাই করতে আগামী সেপ্টেম্বরে দেওয়ান রাকাইতে আস্থাভোট চান তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের কথা থাকলেও এর আগেই পদত্যাগ করলেন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন।