চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাহাড়ি ঢলে নির্মাণাধীন সেতুর বিকল্প সড়ক ভেঙে গেছে। এতে যানবাহনসহ চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আশপাশের অন্তত ১২ গ্রামের মানুষে।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন-বাংলাবাজার সড়কে আট মাস আগে একটি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ মিটার সেতু নির্মাণের কাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবছার কনস্ট্রাকশন। মানুষের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে নির্মাণাধীন ব্রিজের পাশে তৈরি করা হয় বিকল্প সড়ক। ওই সময় নিচু জায়গায় যথাযথ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে বিকল্প সড়ক নির্মাণে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন এলাকাবাসীর আপত্তির তোয়াক্কা না করে নিচু জায়গায় দুটি পাইপ বসিয়ে বিকল্প সড়ক করেন। এ সড়ক দিয়ে জোরারগঞ্জ ও ধুম ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকে। পাহাড়ি ঢলে কয়েকবার ভেঙে গেছে বিকল্প সড়কটি।
জানা গেছে, এক মাস আগে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন খোঁজ খবর নেয়নি। পরে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টার বিকল্প সড়কটি ব্যক্তিগত অর্থায়নে সংস্কার করেন। কিন্তু গত দুদিনের প্রবল বৃষ্টিতে আবারও সড়কটি ভেঙে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, নির্মাণাধীন সেতুর বিকল্প সড়কটি দায়সারাভাবে করা হয়েছে। তাই পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে। এতে করে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শত শত মানুষ। স্থানীয়রা বৈদ্যুতিক খুঁটি বিছিয়ে দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও খবরও নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার এনামুল হক সরকার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে তো কারো হাত থাকে না। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নির্মাণাধীন ব্রিজের বিকল্প সড়কটি ভেঙে যায়। পানি প্রবাহ কমলে সড়কটি সংস্কার করা হবে।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টার বলেন, বিকল্প সড়ক ভেঙে মানুষের দুর্ভোগ দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে ৩ বার সংস্কার করেছি। এতে প্রায় আমার দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতু নির্মাণ কাজের ধীরগতি ও জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে ব্রিজের বিকল্প সড়ক পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প সড়ক সংস্কারসহ ব্রিজের কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হবে।