টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নে পাথালিয়াপাড়া এলাকার মফিজুল ইসলাম ও তার পরিবারকে দীর্ঘদিন যাবৎ সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার স্থানীয় মাতব্বদের বিরুদ্ধে। তবে এলাকাবাসী মফিজুলের অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা তার বৃদ্ধ মাকে ভরণপোষণ না করে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় উভয়পক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান জানান, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনাটি আরো ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ মফিজুল তার মাকে কোনপ্রকার ভরণপোষণ করেন না। উল্টো তার মায়ের নামের জমি ভোগদখল করে আসছে। একই সাথে ভাতিজা শরিফুলের সাথেও মফিজুলের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিলো। চলতি বছরের ১ মে শরিফুল ইসলাম এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষে স্থানীয় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে মফিজুলের বাড়িতে যান।
এ সময় মফিজুলকে তার মায়ের অভিযোগের কথা জানালে সে তা অস্বীকার করে। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় ভাতিজা শরিফুল ও মফিজুলের পরিবারের সাথে।
এসময় মফিজুলের ছেলে জুয়েল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নটরডেম কলেজে পড়ায় তাকে খ্রিস্টান ও নাস্তিক অপবাদ দিয়ে গালমন্দ করে এবং বৃদ্ধ মাকে ভরণপোষণ না করায় মফিজুল ও তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হবে বলেও জানান উপস্থিত মাতব্বররা।
তিন দিন পর সামাজিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের সমাজ থেকে বাদ দেয়া হয়। এ নিয়ে পরদিন মির্জাপুর থানায় উভয়পক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মফিজুল ও তার পরিবারের অভিযোগ তাদের সমাজচ্যুত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে স্থানীয়রা মফিজুল ও তার পরিবারের অফিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেছেন এবং উল্টো মফিজুল তার মাকে ভরণপোষণ না করে তাকে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে তরফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাইদ আনোয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।