সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার ষষ্ঠ দফায় তৃতীয় দিনে ৫৮তম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে এ বিচারকাজ শুরু হয়।
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৯ টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৫ আসামিকে প্রিজন ভ্যান করে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়।
গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে একই গাড়িতে থাকা সঙ্গী সাহেদুল সিফাত। পরে দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনে চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
তৃতীয় দফায় তিন দিন পর্যন্ত ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলায় চতুর্থ দফায় দুই দিনে ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। পঞ্চম দফায় তিন দিনে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ষষ্ঠ দফায় দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত সাক্ষ্য দেন আরও ২২ জন। তৃতীয় দিনে মামলায় ৫৮ তম সাক্ষীসহ আরও ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল বলেন, মামলায় সাক্ষ্যদানের জন্য ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৯ জনকে আদালত নোটিশ দিয়েছিলেন। গত ২৩ আগস্ট থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এতে ষষ্ঠ দফায় দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত ৫৭ জনের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ষষ্ঠ দফায় তৃতীয় দিনে ৫৮তম সাক্ষী হিসেবে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে আদালতের বিচারকাজ শুরু হয়েছে। এরপর সাক্ষ্য দেবেন আরেক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. দেলোয়ার হোসেন। এই দুই বিচারক মামলার ১৫ জন আসামির মধ্যে ১২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, বুধবার ষষ্ঠ দফায় তৃতীয় দিনে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৫৮ তম সাক্ষীসহ ৬ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।