নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের মাজারে এক কবিরাজের সঙ্গে কিছুদিন আগে পরিচয় হয় রিকশাচালক বাসেদ মিয়া ও হালিমা আক্তার দম্পতির। তারা নিজেদের অসহায়ত্ব ও মেয়ের জন্ডিসের কথা জানান সেই কবিরাজকে, বিনিময় করেন ফোন নম্বর।
সোমবার মেয়ের চিকিৎসার জন্য ফোনে ওই কবিরাজকে ডাকা হয়। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে কবিরাজ হাজির হন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা গ্রামের পূর্বপাড়ায় বাসেদ মিয়ার বাড়িতে। রাত ১১টার দিকে মেয়ের জন্ডিসের চিকিৎসা শুরু করার আগে বাসেদ মিয়ার ঘুম হয় কিনা জিজ্ঞাসা করেন কবিরাজ। বাসেদ তখন ঘুম কম হয় বলে কবিরাজকে জানান। এরপর কবিরাজ বাসেদকে ওষুধ খাইয়ে দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিভোর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন বাসেদ। তারপর কেটে যায় সারারাত। চিন্তিত হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। মঙ্গলবার সকালেও বাসেদের ঘুম না ভাঙলে তাকে পরিবারের লোকজন নিয়ে যান স্থানীয় হাসপাতালে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কাশেম পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে ওই ভণ্ড কবিরাজকে বাসেদ মিয়ার বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তার বাড়ি।
কাউন্সিলর আবুল কাশেম বলেন, বাসেদ মিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না। মাঝে মধ্যে চোখ খুললেও কথা বলতে পারছেন না। চোখ খুলে মুহূর্তেই ঘুমিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসক জানিয়ছেন ঘুমের অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়ানোর ফলে এমনটি হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কবিরাজ এই কাজ করেছেন।
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, কবিরাজকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।