যশোরের অভয়নগরের ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক জসিম হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) বিকেলে এ রায় দেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শামসুল হক।
দণ্ডিতরা হলেন-ি অভয়নগর উপজেলার সমসপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে মারুফ হোসেন, মৃত মতলেব সরদারের ছেলে আয়ুব আলী, আলম ও হামিদ সরদারের ছেলে রবি।
দণ্ডিতদের মধ্যে আলম ও রবি পলাতক থাকায় বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা জানান, ২০০৭ সালের ১৩ জানুয়ারি আসামি মারুফ হোসেন কেশবপুর উপজেলার বাসিন্দা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক জসিমের মোটরসাইকেল ভাড়া নেন। এরপর তাকে নিয়ে নিজ বাড়ি অভয়নগর উপজেলার সমসপুর গ্রামে আসেন। বিকেল ৫টার দিকে খাওয়া দাওয়া শেষে মারুফ হোসেনসহ অন্য আসামিরা জসিমকে সাথে নিয়ে ঘুরতে বের হন। এরপর থেকে জসিম নিখোঁজ ছিল। তার পরিবারের লোকজন অন্য মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত করে এ ঘটনায় মারুফ হোসেন ও আয়ুব আলীকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্য মতে মারুফ হোসেনের বাড়ির সেফটি ট্যাংকি থেকে জসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে পুলিশ জসিম হত্যায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
আইনজীবী সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা আরও জানান, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
দণ্ডিতদের মধ্যে আলম ও রবি পলাতক থাকায় বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণা শেষে দণ্ডিত মারুফ হোসেন ও আয়ুব আলীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।