২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আফগানিস্তানের নারী ফুটবল দল প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল ২০১০ সালে। নেপালের বিরুদ্ধে। সেই থেকে প্রচুর আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করা ও প্রশংসনীয় নৈপুণ্য দেখানো এ দলের খেলোয়াড়রা এখন জীবনশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের এখন যৌনদাসী করা হতে পারে, এমনকি তালেবানদের নির্যাতনে মৃত্যুও হতে পারে তাদের। এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাশলেটও বলেছেন, নারীদের প্রতি তালেবানের আচরণ এখনো ‘রেড লাইন’-এ রয়েছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তালেবানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতিক্রিয়াশীল নীতি বাদ দিয়ে মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিন।’ এএফপি।
তালেবানরা ফের ক্ষমতায় আসায় বন্ধ হতে চলেছে আফগানিস্তানের বিনোদনমূলক সব কার্যক্রম। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে তালেবান শাসনামলে, ফুটবলসহ অনেক খেলাধুলা এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রম সব নাগরিকের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই এখন আন্তর্জাতিক তারকারা, যাদের অনেকেই আত্মগোপনে আছেন।
দলটির গোলকিপিং কোচ উইদা জেমারাই সুইডিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেসেনকে বলেন, ‘এটা ভাবতে ভীষণ শিউরে উঠছি। তালেবানরাই বলেছে যে, তারা সেখানে জিহাদ করতে এসেছে এবং তারা মেয়েদের যৌনদাসী হিসাবে বেছে নেয়।’ তিনি বলেন, ‘তালেবানরা যদি কোনো মেয়েকে ধরে নিয়ে যায়, তবে তাদেরকে পুতুলের মতো ঘরে শুইয়ে রাখবে না। তাদেরকে নির্যাতন করবে এবং এতে তাদের মৃত্যুও হতে পারে।’
১৯৯২ সালে জেমারাই এবং তার পরিবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল, যখন তালেবানরা জোর করে দেশটি দখল করেছিল। অনেক বছর পর ২০১৪ সালে দেশে ফিরে গোলরক্ষক হিসাবে যোগ দিতে দেশে ফিরে আসেন। এখন তিনি কিপিং কোচ হিসাবে কাজ করছেন।
জেমারাই জানান, ‘তালেবানরা খেলোয়াড়দের সহজেই চিনে ফেলতে পারে। তারা একজন খেলোয়াড়কে তুলে নিয়ে অন্য খেলোয়াড়ের তথ্য বের করার চেষ্টা করবে।’