টিকটক বিনোদনের জায়গা হলেও অপরাধ প্রবণতার হাতেখড়ি সেখান থেকেই। টিকটকের নেশা যাকে একবার দরে সে ছাড়তে পারে না। টিকটকের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ। একা নন দলবল নিয়ে এমন জঘন্য কাজ করেছে গাজীপুরের টঙ্গীর কিশোর শিশির। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
টিকটক শিশিরের অনুসারী লাখের বেশি। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় শিশিরের ভাড়া ফ্ল্যাটে টিকটক শিখতে আসতো অনুসারীরা। ফ্ল্যাটটি হয়ে ওঠে অপরাধের আস্তানা। নতুন ও কিশোরীরাই ছিল শিশিরের টার্গেট। টিকটক করার কথা বলে টঙ্গী থেকে ২৩শে ডিসেম্বর এক কিশোরীকে রাজধানীতে রেখে তিনদিন ধরে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। অভিযোগের পর গ্যাংয়ের মূলহোতা শিশিরকে আটক করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
শখের বশে টিকটক করতে আসা কিশোরীর পরিবার এখন বাকরুদ্ধ। আসামিদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি তাদের। শিশিরের উপযুক্ত শাস্তি চান টিকটক মাধ্যমে যুক্ত অন্যরাও। কয়েকজন টিকটকার, শিশির যে কাজটি করছে তা জঘণ্য অপরাধ। সচেতন নাগরিকদের অভিমত, আত্মপ্রচারের মানসিকতা এবং ভঙ্গুর পারিবারিক কাঠামোর কারণে অবক্ষয় হচ্ছে সন্তানদের। ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ বিভাগীয় প্রধান (বাংলা বিভাগ) অধ্যাপক এ এইচ অসীম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে প্রদর্শণের যে মানষিকতা, সেটা অধিপত্যকামী মনোভাবের জন্মদেয়, যেটি পরবর্তিতে আমাদের সমাজের জন্য খুব ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
কিশোর অপরাধ ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি, অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ জেলা প্রসাশকের। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, এখন স্কুল-কলেজ খোলা নেই। তাদের সন্তানরা যেন সন্ধ্যার পর অহেতুক ঘর থেকে বের না হয়। সন্তানদের প্রতি তারা যেন নজর রাখেন।
মাদক ব্যবসায় টিকটক শিশিরের পরিবারের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ উপ-পুলিশ কমিশনার, অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগ মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ জানান, তার সম্পর্কে যতটুকু তথ্য পেয়েছি, তার বাবা-মা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্ট চলছে।
#বিডি২৪লাইভ ডট কম