ads
শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান নোয়াখালী: হাজতখানাকে বিয়ে বাড়ি বানালেন দুই আ.লীগ নেতা! মিউজিক্যাল ফিল্মে সুনেরাহ পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন ফ্যাসিস্ট আমলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি: লুটপাট ভয়াবহ আদানির চুক্তি রাষ্ট্রবিরোধী শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সাবেক স্বামী গ্রেফতার বিসিসির সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোনারগাঁয়ে যুবলীগের নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার জকসু নির্বাচন: ভোট গণনা স্থগিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ

রাতেই মানুষের ঢল গোলাপবাগ মাঠে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৫৪ বার পঠিত

নানা নাটকীয়তা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন মোকাবিলা করে ঢাকার ঢাকা মহানগরীর গোলাপবাগ মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিএনপি’র মহাসমাবেশ। মহাসমাবেশের স্থান ঘোষণার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ভরে গেছে গোলাপবাগ মাঠ। আশে-পাশের রাস্তায় রাতেই মানুষের তিল ধারণের ঠাঁই হচ্ছে না।

‘হটাও মাফিয়া, বাঁচাও দেশ- খালেদা জিয়ার নির্দেশ’ স্লোগানে-স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকেও মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের স্লোগানে গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের আমেজ বিরাজ করছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দ্রুতই মঞ্চ বানানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু হবে।

অনুমতির খবর পেয়েই সেখানে হাজির হন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মালবাহী গাড়িতে করে ঢাকায় এসেছি। অনুমতি মিলেছে জেনেই দ্রুত মাঠে চলে আসি। আমাদের মূল চাওয়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং তারেক রহমানকে দেশে আসার সুযোগ করে দিতে হবে। একইসঙ্গে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমরা একসঙ্গে শতাধিক নেতাকর্মী এসেছিলাম। তবে সমাবেশস্থলে একসঙ্গে আসতে পারিনি। পৃথক পৃথকভাবে এসেছি। অনেকবার চেকিংয়ের মুখেও পড়েছি।

বিএনপি ঘোষণা করেছিল নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ হবে। এই জায়গায় মহাসমাবেশের অনুমোদন চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল দলটি। কিন্তু সরকার কোন অবস্থায় নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে দিতে নারাজ। এরমাঝেই বুধবার বিকালে নয়াপল্টনে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করলে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযান চালানোর সময় পুলিশের গুলিতে একজন বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেকে। শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ অভিযানের নামে মানুষ হত্যা করে উল্টা বিএনপি’র ৩ হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছে। এনিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আটক করে নিয়ে গেছে ডিবি পুলিশ।

এভাবে পুলিশের নানা নাটকীয়তা ও নিপীড়নের পর শুক্রবার ঢাকার গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের জন্য অনুমতি দেয় সরকার। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে ডিবি কার্যালয়ের সামনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। বিএনপি বিকল্প হিসাবে এই মাঠ চেয়েছিল। পুলিশ এতে রাজি হয়েছে।

গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। বিকেল পৌনে চারটার দিকে সরেজমিনে মাঠে যেয়ে দেখা যায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছেন। তারা শনিবারের সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ান আহমেদ। তিনি বলেন, ৭ই ডিসেম্বর রাতেই অনেক কষ্টে ঢাকায় এসেছি। পুলিশের তল্লাশির কারণে যে বাসায় উঠেছিলাম, তা ছেড়ে দিয়ে নতুন জায়গায় যেতে হয়েছিল। দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে এত কষ্ট করে আসা।

সমাবেশস্থলে আসা একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বেশিরভাগই ঢাকা বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। গ্রেফতার এড়াতে দু-তিনজন করে আলাদা আলাদাভাবে এসেছেন। ঢাকায় এসেও তারা পৃথকভাবে নিজ নিজ উদ্যোগে থাকার ব্যবস্থা করেন। সমাবেশের অনুমতির খবর মিলতেই দ্রুত মাঠে চলে এসেছেন।

শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের লক্ষ্যে বিএনপি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে পৃথক বৈঠক করছে। যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্যে রূপরেখা ঘোষণার বিষয়টি চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই অবস্থা যুগপৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসাবে বিএনপি বিভাগীয় শহর গুলোতে সমাবেশের ডাক দেয়। ধারাবাহিকভাবে বিভাগীয় সমাবেশ গুলোতে মানুষের ঢল নামে। এতে বিচলিত সরকার ঢাকার সমাবেশের স্থান বরাদ্দ নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে। এ নিয়ে গত সপ্তাহ জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী।

পুলিশ নয়াপল্টনে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এর বদলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে বলা হয় বিএনপিকে। তবে বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশে অনড় থাকে।

সমমনাদেরও ডেকেছে বিএনপি:

গোলাপবাগ মাঠে বিভাগীয় সমাবেশের জায়গা চূড়ান্ত হওয়ার পর বিএনপি সেখান থেকে সরকারকে বিদায়ের ১০ দফা ঘোষণার কথা জানিয়েছে। জোট ভেঙে গিয়ে যাদেরকে নিয়ে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলন করতে চাইছে তাদেরকেও সেই সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সেই দলগুলো যেন নিজেরাও আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে, সে অনুরোধও করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন জানান, দলের ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ শনিবার বেলা ১১টায় শুরু হবে। এই গণসমাবেশ থেকে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করা হবে। তিনি গোলাপবাগে সমমনা দলগুলোকেও যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আগামীকাল গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ আমরা সকাল ১১ টা থেকে শুরু করব, আমরা আমাদের সকল নেতাকর্মী, সমর্থক, এবং অন্যান্য দল যারা ভবিষ্যতে আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করবে, তাদের সকলকে এই প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা আগামীকাল শান্তিপূর্ণভাবে এই সমাবেশ সফল করার জন্য উপস্থিত হবেন।

মোশাররফ বলেন, ঢাকার যারা জনসাধারণ আছে, আমাদের দলের নেতা কর্মী নয়, সেই সকল পর্যায়ের জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি, এই স্বৈরাচারী ও গায়ের জোরের সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে অপচেষ্টা করেছে, তার প্রতিবাদ ও জবাব চাওয়ার জন্য এবং নিজেদের মনের কথা বলার জন্য সমাবেশে উপস্থিত হোন।

সমাবেশে সরকার বিদায়ের ঘোষণা:

১০ই ডিসেম্বর সমাবেশে কী হবে- এটা নিয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে অভিযোগ করে মোশারফ বলেন, আমাদের দলের মহাসচিব বলেছেন, বারবার বলেছেন যে, জনগণ বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে যে রায় দিয়েছে, যে মতামত ব্যক্ত করেছে…যেই আমাদের এখনকার যে দাবিগুলো, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ করা, লোডশেডিংকে কন্ট্রোলে আনা, ভবিষ্যতে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন, এসব দাবিগুলোতে কিন্তু আমরা আমাদের সমাবেশগুলো করেছি।

তিনি বলেন, কালকেও এই দাবি নিয়েই সমাবেশ হবে। যে সমাবেশ থেকে আমরা আগামী দিনের এই সরকারের বিদায়ের জন্য কতগুলো চার্টার্ড ডিমান্ড বা দফা ঘোষণা করব।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করি সেই, যুগপৎভাবেই আমাদের এই যে ১০ দফা প্রণয়ন করেছি, সেটাকে ঘোষণা করবেন এবং যার যার অবস্থান থেকে ভবিষ্যতে যুগপৎভাবে এই দফাগুলো আদায়ের জন্য আমাদের আন্দোলনকে শানিত করার জন্য যার যার অবস্থান থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন এবং এই দফাগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সমাবেশে উপস্থিতি যাতে কম হয় সেজন্য সরকার ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। আর একটা রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ করেছে তারা। সেটি হলো, আলোচনার কথা বলে তাদের (মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস) নিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আজকে এই সারিতে আমাদের যাদেরকে দেখছেন, কালকে সমাবেশের মঞ্চে গেলে আপনারাও হতাশ হতে পারেন। অনুরূপ কাণ্ড সরকার আমাদের সঙ্গে করতে পারে এই আশঙ্কাও আছে। তারপরও জনগণের জনসভা তারাই সফল করবে।

সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ওয়ালি উল্লাহ
নির্বাহী সম্পাদক
নিউজ রুম :০২-৯০৩১৬৯৮
মোবাইল: 01727535354, 01758-353660
ই-মেইল: editor@sristybarta.com
© Copyright 2023 - SristyBarta.com
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102