পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের একার নয়, বিশ্বের মোড়ল হিসাবে পরিচিত দেশগুলোরও দায়িত্ব আছে। রোববার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বিশ্ব মোড়লদের বলেছি-আপনারা রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল রাখাইনে নিরাপদ জোন তৈরি করুন। আপনারা চাইলেই তা করতে পারবেন। তারা মুখে বলেন কিন্তু তাদের আন্তরিকতার অভাব আছে। তবে আমি আশাবাদী-রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরত যাবে। তিনি আরও বলেন, সত্তর থেকে ৯০ দশকেও রোহিঙ্গারা এ দেশে এসেছে। তাদের ফেরতও নিয়েছে মিয়ানমার। কারণ তখন বিশ্ব মোড়লদের কার্যকর উদ্যোগ ছিল। সে সময় মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল। এখন কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। এ কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে। আমরা বলেছি, রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে যেতে চায়। যাতে তারা যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করো। মিয়ানমার সবকিছুতেই রাজি কিন্তু এখনো প্রত্যাবাসন শুরু করেনি। পাঁচ বছর পার হয়েছে। একটা রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। আমরাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে-দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক চেষ্টা চলছে। আদালতে পর্যন্ত যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার শুরু করেছে, এর সমাধানও তাদের ওপরই বর্তায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আমাদের দেশ খুবই ঘনবসিতপূর্ণ। প্রতি বর্গমাইলে প্রায় ২৯শ লোকের বসবাস। আর আমেরিকায় মাত্র ৪০, ইউরোপে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ জন। ওদের দেশ অনেক বড়। পৃথিবী আল্লাহর তৈরি-সব মানুষের অধিকার আছে বাঁচার। তাই আমরা তাদের (উন্নত দেশ) বলেছি, আপনারা কিছু লোক নিয়ে যান। কিছু লোক নেওয়া শুরুও হয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমালোচকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিবছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। বন্ধুরাষ্ট্রগুলোও সাহায্য করছে। তবে সবচেয়ে বেশি করছে বাংলাদেশ। তারপরও কিছু লোক সমালোচনা করে। তিনি বলেন, তাদের নিজেদের কিছু করার মুরোদ নেই। কিন্তু খুঁত বের করার ওস্তাদ।
সিলেট নগরীর ধোপাদিঘিরপাড়ের হাফিজ কমপ্লেক্সে আল খায়ের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে হুইল চেয়ার ও সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, দারিদ্র্য একটা অভিশাপ। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন দেশে কেউ দরিদ্র থাকবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে অতি দারিদ্র্যসীমার হার ৩ শতাংশের নিচে নিয়ে আসার কাজ চলছে। এ সময় সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।