জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, দুর্ঘটনার শিকার লঞ্চটি বরগুনায় আসছিল। নিহত ও আহতদের অধিকাংশ এ জেলার বাসিন্দা।
তিনি বলেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। আর আহতদেরকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা আমরা জেলা প্রশাসন থেকে দেব।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান-১০। লঞ্চটি রাত তিনটার দিকে ঝালকাঠি টার্মিনালের কাছাকাছি পৌঁছালে ইঞ্জিনরুমে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে।
আহতরা জানান, আগুনের সঙ্গে ধোঁয়ায় লঞ্চ আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এতে সবাই দিশেহারা হয়ে পড়েন। লঞ্চের ভেতরে থাকা যাত্রীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। এ সময় পায়ের নিচে পদদলিত হয়ে অনেকে আহত হয়। যে যেভাবে পেরেছেন আত্মরক্ষার চেষ্টা চালিয়েছেন। প্রাণে বাঁচাতে অনেকেই স্বজনদের রেখে নদীতে ঝাঁপ দেন। কয়েকজনকে শরীরে আগুন নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। লঞ্চে প্রায় ৩০০ থেকে সাড়ে তিনশ যাত্রী ছিল। বহু হতাহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দগ্ধও হয়েছেন অনেকে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা।