নাটোরের লালপুর থেকে আরিফ (১৯) ও চঞ্চল (১৮) নামে ইমো প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে তাদেরকে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া বাজার থেকে আটক করা হয়।
আটককৃত আরিফ সুলতানপুর গ্রামের আসাদের ছেলে এবং চঞ্চল একই এলাকার ফিরোজ আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, আটককৃতরা দীর্ঘদিন থেকে এ্যানন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে অডিও-ভিডিও কলিং অ্যাপস ইমো’র মাধ্যমে প্রতারণা করে প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া গ্রামে গড়ে ওঠে ইমো প্রতারক চক্র। তারা মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপস ব্যবহার করে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ চলতে থাকলেও তেমন কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দিনদিন বেড়েই চলেছে এই প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য।
এই প্রতারক চক্রকে প্রতিহত করতে এবার নাটোর জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহার নির্দেশনায় লালপুর থানা পুলিশ অভিযানে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোর রাতে এসআই কৃষ্ণ মোহন সরকারের নেতৃত্বে লালপুর থানা পুলিশের একদল সদস্য উপজেলার নওপাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে ইমো প্রতারক চক্রের দুই সদস্য আরিফ ও চঞ্চলকে আটক করে।
এসআই কৃষ্ণ মোহন সরকার জানান, লালপুরের বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বর্তমানে ইমো প্রতারকচক্র খ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়েছে। এই চক্রটি এ্যানন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ইমো ব্যবহার করে তাতে পর্ণো ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করে তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের প্রতারণা করে আসছে। এই ইমো চক্রটি প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে নাটোর জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহার নির্দেশনায় ও লালপুর থানা ওসি সেলিম রেজার সার্বিক সহযোগিতায় শনিবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। এসময় তাদের ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
লালপুর থানার ওসি সেলিম রেজা দুই ইমো প্রতারককে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে বিকেলে নাটোর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।