লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তর্ক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিত এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরেকজন। শনিবার রাত ১১টার দিকে জগতবেড় ইউনিয়নের ভেরভেরীরহাট সীমান্তে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত বাংলাদেশি পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকার রবিউল ইসলাম (৫২)। একই গ্রামের আহত ব্যক্তি সহিদুল ইসলাম (৩৫) রংপুরের একটি হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৮৬৪ নম্বর প্রধান পিলারের জগতবেড় ইউনিয়নের ভেরভেরীরহাট এলাকা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু পারাপারকারীদের সহায়তায় বাংলাদেশি গরু পারাপারকারীসহ উভয় দেশের ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল গরু পারাপারের চেষ্টা করতে থাকে। শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই দলের মধ্যে রবিউল ও শহিদুল সীমান্তে যায়। এ সময় ভারতীয় ১৬৯ রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চেনাকাটা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ভারত-বাংলাদেশের গরু পারাপারকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে রবিউল ইসলাম কোমড়ের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ ঘটনায় শহিদুলকে আহতাবস্থায় তার সঙ্গীরা উদ্ধার করে রাতেই রংপুরে নিয়ে যায়। বর্তমানে রংপুরের একটি হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, নিহত রবিউলের লাশ তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
লাশ ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শহিদুল রংপুরে চিকিৎসাধীন বলে শুনেছি।
বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২ (৬১ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এম মাহবুবুল আলম খান ও উপঅধিনায়ক মেজর নাজমুস সাকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে নিহতের ব্যাপারে তদন্ত কার্যক্রম চলমান। ঘটনাস্থলের কাছে উভয় দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে সকালে পতাকা বৈঠক হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে শমসের নগর ক্যাম্প কমান্ডার বেলাল হোসেন ও ভারতের পক্ষে চেনাকাটা ক্যাম্প কমান্ডার বারোরাম শিং এর নের্তৃত্বে সভা হয়। সভার আলোচীত বিষয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।