শরীয়তপুরের চন্দ্রপুরে আলোচিত ছামাদ মাস্টার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলার রায় ৪ জনকে ফাঁসি ৯ জনকে যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রার ১১ বছর পর আলোচিত এই হত্যা মামলার রায়ে ন্যায় বিচার পেয়েছে নিহতের পরিবার। তবে আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইনিয়নের লক্ষিরমোর বাস স্ট্যান্ডে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় আব্দুছ সামাদ আজাদকে। ১৭ জানুয়ারি নিহত ছামাদ মাস্টারের স্ত্রী ফেরদৌসী আজাদ তৎকালীন চন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মোল্লকে ১ নাম্বার আসামি করে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে পালং থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর মামলার তেমন কোন অগ্রগতি না থাকায় ২০১৮ সালে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার জন্য আবেদন জানান মামলার বাদী। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে-৩ এ স্থানান্তর করেন। ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। করোনা মহামারীর কারণে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও সব শেষ ২০২১ সালের মার্চ মাসে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর এ মামলার আরগুমেন্ট শেষ করা হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার রায়ে ৪ জনকে ফাঁসি ৯ জনকে যাবজ্জীবন রায় দেন আদালত। এর আগে তদন্ত শেষে ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযুক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জন কারাগারে ও ২ নং আসামি আজিবর বালি পলাতক রয়েছে।
নিহত ছামাদ মাষ্টার চিকন্দি শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তৎকালীন ২০১০ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন। এর আগে ২০০৩ সালের চন্দ্রপুর ইউপি নির্বাচনেও তিনি একজন প্রার্থী ছিলেন। সেই নির্বাচনে অল্পসংখ্যক ভোটে হেরে যান তিনি। পরবর্তীতে ২০১০ সালের নির্বাচনের আগে স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ছামাদ মাষ্টার।