সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহজাদপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক রাজীব সেখের ভাই মিলন সেখকে ইয়াবাসহ আটক করেছে। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, মিলন ও তার চারজন সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে শাহজাদপুরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য বিক্রি করছিল। অভিযান চালিয়ে ৩৫০পিস ইয়াবাসহ মিলন ও তার চার সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। আর স্থানীয়রা বলছেন, যুবলীগ নেতা রাজীবের ছত্রচ্ছায়ায় দলের প্রভাব খাটিয়ে তার পরিবার শাহজাদপুরে ইয়াবা-গাজার ব্যবসা পরিচালনা করছে। এর আগেই রাসেলের বড় ভাই বাচ্চু সেখ ও ভাবীকে ইয়াবা-গাজাসহ আটক হয়েছিল। এদিকে যুবলীগ নেতার পরিবার মাদকদ্রব্য ব্যবসায় জড়িত থাকায় এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আটককৃতরা হলো- পৌরসভার দ্বারিয়ারপুর মহল্লার বাসিন্দা চান্দুর ছেলে ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক রাজীবের ছোট ভাই মিলন সেখ, পৌরসভার পুকুরপাড় গ্রামের কমল সেখ, পাড়কোলা গ্রামের রজব সেখ ও পাবনার সাথিয়া থানার সাব্বির হোসেন।
জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সন্ধায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মাদলা গ্রামের গোলজারের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ১৪০পিস ইয়াবাসহ সাব্বির ও রজব নামে দুজনকে আটক করা হয়।
এসময় তারা জানান, মিলন সেখ মুল ব্যবসায়ী এবং তার কাছ থেকেই ইয়াবা নিয়ে তারা বেচাকেনা করেন। তাদের দেয়া তথ্যমতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার শক্তিপুর আতাউরের মার্কেটে অভিযান চালিয়ে মিলন সেখ ও তার সহযোগী কমলকে আটক করা হয় এবং একজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে মিলনের শার্টের ভিতর থেকে ১০৬ পিস ও কমলের কাছ থেকে ১০৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা যুবলীগের কয়েকজন নেতা জানান, যুবলীগ নেতা রাজীব ও তার পরিবারের সদস্যরা দলের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন যাবত শাহজাদপুরে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে। এর আগে তার ভাই ও ভাবী মাদকসহ আটক হয়েছিল। যুবলীগকে মাদকমুক্ত করতে রাসেলকে দল থেকে বহিস্কারের দাবীও জানান নেতারা।
এ বিষয়ে যুবলীগ নেতা রাজিব সেখ জানান, আমার ভাইয়েরা নেশা-টেশা করে জানি। কিন্তু ব্যবসা করে কিনা জানিনা। তবে শুনেছি ইয়াবাসহ আটক করেছে। এর আগেও বড় ভাই বাচ্চু আটকের বিষয় স্বীকার করে জানান, শ্রমিক সে জন্যই হয়তো নেশা পান করায় পুলিশ আটক করেছিল।