শেরপুরে একটি বেসরকারি সংস্থার ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে ছলচাতুরি করায় উত্তেজিত জনতার হাতে ধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে।
রোববার বিকেলে জেলার নকলা উপজেলার ধনাকুশা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
জনতার রোষের স্বীকার ওই ব্যক্তির নাম রবিউল ইসলাম রবি। তিনি দুই নম্বর নকলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
স্থানীয়রা জানান, রমজান উপলক্ষে শেরপুরের আল নাসার ফাউন্ডেশন ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে নকলা উপজেলার দুই নং ইউনিয়নের ধনাকুশা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য তারা রবির সহযোগিতা চান। কিন্তু রবি আয়োজকদের বিনামূল্যের কার্ড জনপ্রতি ২০ টাকার বিনিময়ে বিতরণ করে। ৬০০ গ্রাহকের কাছে কার্ড বিনামূল্যে বিতরণের কথা থাকলেও তিনি অন্তত ১৪০০ গ্রাহকদের মধ্যে প্রতিটি ২০ টাকার বিনিময়ে বিতরণ করেন। এনিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুদ্ধ হয়ে অবরোধ করে রবিকে ধোলাই করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উৎসুক জনতার কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
এ ব্যাপারে রবিউল ইসলাম রবি একাত্তরকে বলেন, আয়োজকদের প্রতিনিধি কবিরের কথাতেই আমি জনপ্রতি কার্ডের জন্য ২০টাকা করে ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করি। যারা টাকা তুলেছে তাদের খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। আর ১০ হাজার টাকা কবিরকে দেই। বাকি ৫০হাজার আমার কাছে আছে। এর মধ্যে আরও ২০ হাজার টাকা কবিরকে দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে আজকে এই ঘটনা।
আল নাসার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম একাত্তরকে বলেন, রমজান উপলক্ষে আমরা ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় নকলায় আমরা পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেই। পরে আমাদের দুজন নকলার প্রতিনিধি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। কিন্তু সহযোগিতা করতে গিয়ে টাকা নিচ্ছে এটা আমরা জানি না।
তিনি আরও বলেন, আমরা কার্ড বিতরণের সময় কোনো টাকা নেইনি বা নেয়ারও সুযোগ নেই। কিন্তু পরে জানতে পারি, তিনি (রবি) গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি কার্ড ২০ টাকা করে নিয়েছেন। এটা আসলেই অন্যায় এবং অপরাধ। টাকার নেয়ার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ একাত্তরকে বলেন, এ ঘটনায় আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগ বিব্রত। অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাদের মিয়া একাত্তরকে বলেন, ‘আমরা সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার কাছ থেকে তাকে (রবিকে) উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। উনি বর্তমানে আমাদের থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’