শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও পাখি শিকারিদের অত্যাচারে হারিয়ে যেতে বসেছে বকবাড়ির বক পাখিগুলো। এ বকবাড়িটি হচ্ছে উপজেলার বাঘবেড় গ্রামের বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের বাড়ি। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া বক পাখির এই অভয়াশ্রমকে সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সূত্রে জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের পুর্বে থেকেই বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের বাড়িতে বক পাখির অভয়ারন্য গড়ে উঠে। শত শত বক পাখি তাঁর বাড়ির বাঁশ ঝাড়ে অবস্থান করে। এসব পাখির অভয়ারন্য দেখতে প্রতিদিন এলাকার শতশত মানুষের ভীড়জমে ওই বাড়িতে। বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মন বক পাখি গুলোকে পরিচর্চা করতেন। অনেক সময় বকগুলো তার ঘরে নেমে এসে আহার করতো। বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের শরীরে এসে বসতো বক পাখি। তখন থেকেই বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের বাড়িটি বক বাড়ি হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। গত প্রায় এক বছর পূর্বে বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের মৃত্যু হয়। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পরে বক পাখিগুলো। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও পাখি শিকারীদের অত্যাচারে দিন দিন বকগুলো এখন প্রায় বিলপ্তির পথে।
বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের ছেলে সতিন্দ্র চন্দ্র বর্মন, সুকেন্দ্র চন্দ্র বর্মন ও রমেশ চন্দ্র বর্মন জানান, বর্তমানে যে পরিমানের বক পাখি রয়েছে সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাবস্থা করা গেলে এখনও অভয়ারন্যটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তারা জানান, বকগুলো আহার করতে গেলে আশপাশের শিকারীরা ধরে নিয়ে যায়। আবার রাতের অন্ধকারে প্রতিবেশীরা বাঁশ ঝাড়ে উঠে ধরে নিয়ে যায়। তাদের মতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বক পাখি গুলোকে রক্ষা করা যাবে।