কালো বরণ সে যে স্রষ্টারই দায়, কিন্তু শ্বেতবর্ণ কায় তা ভুলিয়া যায়। সহস্রাব্দর পর সহস্রাব্দ, শতাব্দীর পর পার হয়েছে শতাব্দী। প্রস্থর-ব্রোঞ্জ-লৌহ যুগ পেরিয়ে মানুষের ভাষ্যমতে আমরা এখন সভ্যজাতি। কিন্তু আদৌ কতটুকু সভ্য আমরা! সাদা-কালোর বিভেদ যে, এখন তোলে প্রশ্নের আঙ্গুল। দৃশ্যমান না হলেও অদ্ভুত এক দাসত্বের রজ্জুতে পৃষ্ট মানব সমাজ। যে ছোবল থেকে বাদ যায়নি ক্রীড়াঙ্গনও।
অথচ নো রেসিজম ইন স্পোর্টস। এই স্লোগান তাবদ দুনিয়াকে বেঁধেছিল এক সুতোয়। তবুও কখনও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় কিংবা সমর্থক। বর্ণবাদ মাঝে মাঝেই চাড়া দিয়েছে মাথা। তবে ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটে এই ইস্যুতে খুব একটা হয়নি তর্ক। তাই যেন এবার উসকে দিলেন প্রোটিয়া উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক।
‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দলের খেলোয়াড়দের হাঁটু গেড়ে বসার নির্দেশ দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড। তবে সে আদেশ মানতে রাজি হননি ডি কক। তাও আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে। ফলাফল চারদিকে ওঠে সমালোচনার ঝড়। তাকে বর্ণবাদীর তকমা দিয়েছেন অনেকেই। ক্রিকেট ক্যারিয়ারই পরে যায় হুমকির মুখে।
চারদিকের তীর্যক সব মন্তব্যের পর অবশেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এ প্রোটিয়া। মুখ খুললেন দুইদিন পর। এক বিবৃতিতে পরিষ্কার করেছেন নিজের অবস্থান।
বিবৃতিতে কিছুটা আবেগী হয়ে পড়েছিলেন কক। কথা দেন পরের ম্যাচ থেকেই বসবেন হাঁটু গেড়ে। সেই সঙ্গে আহ্বান জানালেন অন্যের মতামতকে সম্মান জানাতে।
নেলসন ম্যান্ডেলার দেশে এত সহজেই ভক্তরা তাকে ক্ষমা করবেন কি না তা বলে দেবে সময়ই। সঙ্গে অন্যদের জন্যও এ ঘটনা জানিয়ে দিলো বার্তা। ক্রিকেট যে ভদ্রলোকের খেলা।