শ্বশুরের বাড়ির দরজায় সংসারের দাবিতে অনশন করছেন ছেলের বউ। শুক্রবার বিকেল থেকে তিনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের সুজালপুর আরিফ বাজারের বাসিন্দা হাজী মো. সমশের আলীর বাড়ির সামনে সংসারের দাবিতে অনশন করছেন।
অপরদিকে স্ত্রী বাড়ির দরজায় অনশন করছেন শুনে স্বামী সেলিম পালিয়ে গেছেন। রোববার সকালে থেকে অনশনরত ওই গৃহবধূকে দেখার জন্য ওই বাড়ির সামনে ভিড় করছে উৎসুক জনতা।
গৃহবধূ খুশবাদ জাহান খুশি বীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী এবং বীরগঞ্জ পৌর শহর সংলগ্ন উপজেলার নিজপাড়া ইউপির আব্দুল খালেক চৌধুরীর মেয়ে।
নিজপাড়া ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, সমশের হাজীর ছেলে সেলিমের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তারই সূত্র ধরে ২৮ নভেম্বর গভীর রাতে সেলিম বাড়ির লোকজনের অগোচরে মেয়েটির ঘরে প্রবেশ করে। পরে এলাকাবাসী সেলিমকে আটক করে তার পরিবারকে খবর দেয়। এলাকাবাসী ২৯ নভেম্বর ২৫ লাখ টাকা দেনমোহরে এভিডেভিড ও নিকাহ রেজিষ্ট্রার মঞ্জুর কাজীর মাধ্যমে বিয়ে দেয়।
তিনি আরো বলেন, হাজী সমশের ভাটার মালিক হওয়ার অহংকারে মেয়েটির জীবন নিয়ে খেলা করছে, তারা টাকার বিনিময়ে মেয়েটিকে তালাক দিয়ে সংসার হতে বঞ্চিত করছে। এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মেয়ের মা জানান, বিয়ের পর থেকে সেলিম ও তার বাবা হাজী সমশের তালাকের হুমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এটা শুনে আমার মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে সংসার করার লক্ষে গেলে হাজী সাহেব ও তার মেয়ে আমার মেয়ে খুশিকে মারধর করে বাড়ির বাইরে তাড়িয়ে দেয়। খুশির সেখানে অবস্থানের সংবাদ পেয়ে আমি এসে বুঝিয়ে বাড়িতে নিতে চাইলে সে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে গেটেই বসে পড়ে।
মেয়েটির বাবা আব্দুল খালেক চৌধুরী ন্যায় বিচার কামনা করে জানান, বর্তমানে হাজী সমশেরের চাহিদা মতো ২০ লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় তারা মেয়েটিকে আমার বাড়িতে রেখে গিয়ে আর নিচ্ছে না। যৌতুকের দাবি মেটানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
হাজী মো. সমশের আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানায়, মেয়েটির বাড়ির কাছাকাছি আমার ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান ইটের ভাটা হওয়ায় তারা আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে আটক করে বিয়ে দেয়।