নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রকাশ্যে মেম্বার মারধর করায় আলা উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (২৭ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান আলা উদ্দিন। আলা উদ্দিন উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পূর্ব চরমজিদ গ্রামের আবদুল হকের ছেলে।তিনি দুই ছেলে সন্তানের জনক।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সেলিম বাজারে চৌধুরী মাঝির দোকানের সামনে প্রকাশ্যে ওয়ার্ড মেম্বার কেফায়েত উল্যাহ তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন।
নিহতের এক আত্মীয় জানান,পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলা উদ্দিনের মামা আবদুল হক তাকে ধরে নিয়ে যায় বাজারে। সেখানে ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার কেফায়েতের কাছে তার বিরুদ্ধে বিচার দাবি করে। এক পর্যায়ে মেম্বার কেফায়েত তাকে গালমন্দ করে এবং প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে মারধর করে। এতে অপমানিত হয়ে বাড়িতে গিয়ে রাতে আলা উদ্দিন বিষ পান করে।
পরে তাকে দ্রুত সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। তাকে রাতেই আত্মীয়স্বজনরা ঢাকায় নিয়ে যান।সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে বুধবার ভোরে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তিনি।
এদিকে আলা উদ্দিনকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার কেফায়েত উল্যাহ বলেন, আলা উদ্দিন তার মাকে প্রায়ই মারধর করতো। গতকাল আলা উদ্দিনের কাছে তার মা আম খেতে চাইলে মায়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে আলা উদ্দিন। বিষয়টি তার মা মায়া বেগম তাকে জানালে আলা উদ্দিনকে ডেকে আনা হয়। প্রকাশ্যে আলা উদ্দিন অপরাধ করেছে বলে স্বীকার করলে তাকে মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু সে মায়ের কাছে ক্ষমা না চেয়ে বিষ পান করে।
বিষপানে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহত আলা উদ্দিনের ভায়েরা ভাই জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, রাতে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চরজব্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বেলে জানান।