এক সপ্তাহ আগে গরুর মাংস স্থান ভেদে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হলেও পবিত্র শবে বরাতকে সামনে রেখে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মুরগি, সবজি, মসুরের ডাল, আটা, ছোলা বুটের দাম বেড়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে ভোজ্যতেলের দাম। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য পণ্যের দাম।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শবে বরাতের রাতে বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে ভালো খাবার আয়োজনের রীতি অনেকদিনেরই। এদিন অনেকে রুটি হালুয়া, গরুর মাংসসহ সাধ্য অনুযায়ী ভালো ভালো রান্নাবান্না করেন। সেসব খাবার গরিবদের মধ্যে বিতরণ ছাড়াও পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এজন্য এ রাত উপলক্ষে অনেকেই ভালো কিছু রান্না করেন। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরুর মাংসের দোকানে ভিড়। মিরপুর কাঁচাবাজারের মাংস ব্যবসায়ী সালিম মিয়া বলেন, আজ গরুর মাংস ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। তবে দাম কেনো বাড়ছে, এর কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। বার বার জিজ্ঞেস করলেও ব্যস্ততা দেখিয়ে কোনো জবাব দেননি তিনি, বরং বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
সেখানে এক ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মাংস না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম শবে বরাতের রাতে চালের রুটির সঙ্গে মাংস খাবো। এটা বিশেষ করে বাচ্চাদের দাবি। কিন্তু বাজারে এসে দেখি মাংসের দাম বেড়ে গেছে। এতো দাম দিয়ে মাংস কেনা সম্ভব নয়।
এরপরেও কেউ কেউ মাংস কিনছেন। তবে অনেকে এক বা দুই কেজি মাংস কেনার জন্য এলেও কেউ কেউ আধা কেজিও কিনছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানি মুরগির দামও কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। আগে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রয়লার মুরগির দাম নেয়া হচ্ছে ১৬৫ টাকা কেজি।
এছাড়া বাজারে দাম বেড়েছে সবজির। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। এসব বাজারে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, (গোল) বেগুন ৬০ টাকা, (লম্বা) বেগুন ৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া পিস ৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পেঁপের কেজি ৪০ টাকা, বরবটির কেজি ১২০ টাকা, শসার কেজি ৮০ টাকা, সাজনার কেজি ২৪০ টাকা, ধুনধুলের কেজি ৬০ টাকা ও মটরশুটির কেজি ১২০ টাকা।
এ সব বাজারে আগের দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আর ৫ কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। কমেছে পেঁয়াজের দাম। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।
বাজারে চায়না রসুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। দেশি আদার কেজি ৬০ টাকা। চায়না আদার দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা।
এছাড়া বাজারে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। পেঁপে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
বেড়েছে ডালের দাম। দেশি মুসুরের ডালের কেজি ১৩০ টাকা। গত সপ্তাহে ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১২০ টাকা। ইন্ডিয়ান ডালের কেজি ১০০ টাকা। বেড়েছে খোলা আটার দাম। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা। গত সপ্তাহে আটার কেজি ছিল ৩৪ টাকা।
এসব বাজারে ভোজ্যতেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৬৮ টাকা। বাজারে বেড়েছে চিনির দাম। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। এছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। এছাড়াও বাজারে বেড়েছে ছোলার দাম। ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।