ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ ও পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছে থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ দুই জনপ্রতিনিধিই একে অপরকে দুষছেন।
এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুই জন প্রতিনিধির পরস্পরবিরোধী অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এ ঘটনার বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. শাহীন আহমেদের পক্ষে ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহজাহান মিয়ার শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (০২ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার সোনারামপুর বাজারে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. শাহজাহান মিয়া শতাধিক দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা ফেরত দিতে শাহিন চেয়ারম্যান চাপ দিলে শাহজাহান মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে কুৎসা রটাতে থাকে। এ ঘটনার প্রতিবাদেই চেয়ারম্যানের কর্মী-সমর্থকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছেন।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ দাবি করেন, তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য কয়েকজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহজাহান মেম্বারকে দিয়ে এসব ষড়যন্ত্র করাচ্ছেন। এলাকায় উন্নয়নের বিপ্লব ঘটানো হয়েছে। তাই এসব কাজে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহজাহান মিয়া এ চক্রান্ত করছেন।
তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী অসহায় মানুষকে ঘর দিচ্ছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিষদের ২নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শাহজাহান তার ওয়ার্ডের ৩৭ জন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১০/১২ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। আমরা তাকে চাপ দিয়েছি টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার জন্যে। সে ফেরত দেবে বলে আমাকে জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত টাকা ফেরত দেয়নি। উল্টো আমার বিরুদ্ধে সে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
এদিকে চেয়ারম্যান শাহীন কর্তৃক আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে সোনারামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহজাহান বলেন, সোনারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো.শাহীন আহমেদ মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘর দেবে বলে পুরো ইউনিয়নের ৪শ’ অসহায় মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদনের মাধ্যমে অভিযোগ করা হয়েছে। সে আমার ওয়ার্ডের ৩৬ জনের কাছ থেকেও ১০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি পুরো ঘটনার সুস্থ তদন্ত দাবি করছি।
এদিকে দুই জনপ্রতিনিধির পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাসির উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, দুই জনপ্রতিনিধির বিষয়টি অবগত হয়েছি। প্রকৃত ঘটনা জানতে এ ব্যাপারে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই একদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত বিষয়ে রির্পোট দিতে তদন্ত কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।