সরকারি হওয়ার পরও কিন্ডারগার্টেন আদলে চলছে পঞ্চগড়ের করতোয়া আদর্শ শিক্ষা নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিনা বেতনে পড়ার বদলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে টাকা।
১৯৮৪ সালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে প্রতিষ্ঠা করা হয় কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতন। ২০১৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত হয়েছে সরকারি। তবে মানা হচ্ছে না বিনা বেতনে লেখাপড়ার শর্ত।
বিদ্যালয়টির প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতেই গুণতে হয় ২ হাজার ৫শ ৫০ টাকা। আর প্রতি মাসে বেতন দিতে হয় ৫শ টাকা। করোনার মধ্যেও আদায় করা হয়েছে অর্ধেক বেতন। করতোয়া কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের নামে আদায় করা হয় বেতন ও অন্যান্য ফি।
বিদ্যালয়টি জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরাসরি অভিযোগ করতে নারাজ অভিভাবকেরা। আর সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানকে পড়ানোর সমান সুযোগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
তারা বলেন, সরকারি স্কুলেও আমরা উচ্চ বেতনে সন্তানদের পড়াশুনা করাতে হচ্ছে। এটা আমাদের কাছে বোধগম্য হচ্ছে না। উচ্চ বেতনের জন্য আমরা তাদের ঠিকমত পড়াশুনা করাতে পারছি না।
বিদ্যালয়ে সাড়ে ৯শ’ শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য অতিরিক্ত শিক্ষক নেয়ায় বেতন নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক রাশেদুল আলম। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত অনেক শিক্ষক আছে। আমাদের স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষক মিলে মোট ৩৫ জন স্টাফ আছে। তাদের ব্যয় ভার স্কুলেরই বহন করতে হয়। এছাড়া একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও আছে। এজন্যই এখানে বেতন একটু বেশি।
এ বিষয়ে ক্যামেরায় কথা বলতে নারাজ জেলা প্রশাসন। আর সরকারি বিদ্যালয় হলেও অতিরিক্ত খরচ মেটাতে টাকা আদায়ের বিষয়টিকে সমর্থন জানালেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
প্রতিষ্ঠানটিতে শিশু শ্রেণী হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫ শিক্ষক পেয়ে থাকেন সব সরকারি সুযোগ সুবিধা।
#ডিবিসি নিউজ