প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই ন্যক্কারজনক গ্রেপ্তার এই সরকারের অসহিষ্ণু চরিত্রের বহিঃপ্রকাশই শুধু করেনি, বরঞ্চ তারা যে এদেশে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্পূর্ণ কুক্ষিগত করেছে তাও পুনরায় প্রমাণিত করেছে।
বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে বর্তমান সরকার এক এক করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, জনগণের ভোটাধিকার, দেশবাসীর স্বাস্থ্যসেবার অধিকার (বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে) সহ এদেশে দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে তা আজ আর নতুন করে বলার আপেক্ষা রাখে না। গতকালের এই ঘটনাটির একটু সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ করলেই আমার বক্তব্যটি ‘জলবৎ তরলং’ হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, এই গ্রেপ্তারের পেছনে যে মোটিভটি কাজ করেছে তা সরকার এখন আর কিছুতেই ধামাচাপা দিতে পারবে না। এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, সাম্প্রতিককালে করোনা ব্যবস্থাপনার ধুয়ো দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিগত এক বছরে যে চরম দুর্নীতি হয়েছে রোজিনা ইসলাম তার মাত্র পাঁচটি ‘টিপ অফ দ্য আইসবার্গ’টি সম্প্রতি কয়েকটি ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আলোর মুখ দেখিয়েছেন।
বলাবাহুল্য, এতে করে বাংলাদেশের একজন চরম নির্বোধও বুঝতে পেরেছে যে, এই রিপোর্টিংয়ের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কি পরিমাণ গাত্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে এবং এখন মনে হচ্ছে যে, রোজিনা ইসলামকে এ ধরনের একটি শিক্ষা দেয়ার জন্যই বুঝি তারা ওঁতপেতে ছিলেন। গতকাল এই সুযোগটি তাদের হাতে যেন আকাশ ফুঁড়ে এসে গিয়েছিল।
যেই না রোজিনা ইসলাম আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলেন অমনি তারা তাকে আটক করলো। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে। এই বেআইনি আটকের বিচার এদেশে কে করবে? শুধু তাই নয়, তার ওপর তিনি একজন নারী- অসুস্থ হওয়ার পরেও তার কোনো চিকিৎসার বা তাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হলো না। এসব মানবিক দিকের কথা আর নাই বা বললাম।