পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি একেএমএ আউয়াল ও তার স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে নাজিরপুরে খাসজমি দখলের অভিযোগে করা তিন মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদক সচিব ড. মুহম্মাদ আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর দায়েরকৃত পৃথক তিনটি মামলার চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী আকবর বলেন, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ১নং খাস খতিয়ানের সরকারি জায়গা দখল করে পাকা দ্বিতল বাড়ি নির্মাণসহ পিরোজপুর সদরের সরকারি ও অন্যান্য ব্যক্তি মালিকানার জমি ও স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) একেএম আউয়াল ফাউন্ডেশন ও পাঠাগারের নামে খাসজমি দখল করে অবৈধভাবে তিনতলা ভবন নির্মাণ করায় পৃথক তিনটি মামলায় চার্জশিটের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।
জানা গেছে, সাবেক এমপি আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাপক সম্পদ অর্জন করেন। এর মধ্যে পিরোজপুর-নাজিরপুর-স্বরূপকাঠিতে সরকারি ভূমি ও বিভিন্ন ব্যক্তির ভূমি দখল করে অবৈধ বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করা অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক। দীর্ঘ তদন্তের পর এ দম্পতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫/২ ধারা অনুযায়ী চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রসঙ্গত,খাসজমি দখল করে অবৈধ ভবন নির্মাণ ছাড়াও,আউয়ালের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৫ টাকার সম্পদের ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার ৫০ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিকার তথ্য পায় দুদক। এ ছাড়া আউয়াল দুদকে দাখিল করা সম্পদের বিবরণীতে ১৫ কোটি ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ অভিযোগে ২০২০ সালের গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী আকবর বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন।
সম্পদ অর্জনের মামলায় দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি সাবেক এমপি একেএমএ আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালত।