সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন সরকারের নাটক বলে দাবি জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের শরীকদলগুলোর।
নির্বাচন কমিশনের চেয়ে নির্বাচনকালীন সরকার অথবা জাতীয় সরকার গঠন করে তার অধীনে নির্বাচনের ওপর জোর দিচ্ছে তারা। বিএনপি বলছে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ক্ষমতাসীনরা অসাংবিধানিক দাবি করলে সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন গঠনও অসাংবিধানিক। জনগণের চাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বরং তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করে দলটি।
২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সম্পর্কিত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে সর্বোচ্চ আদালত। তারপর ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। আর সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত পর পর দুটি নির্বাচন কমিশন আয়োজন করে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
কিন্তু, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আবার মুখর হয়ে ওঠেছে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা। তারা চায় নির্দলীয় সরকার এসে নির্বাচন কমিশন গঠন করুক। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিরোধিতার বদলে নির্বাচনকালীন সরকার অথবা জাতীয় সরকারের দাবি নিয়ে এগুতে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরীক দল নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সার্চ কমিটি গঠন করা একটি নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। গতবারও সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। যেদেশে প্রধান বিচারপতিকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয় সেদেশে নির্বাচন কমিশন কিছুই করতে পারবে না। তা আমরা গত পাঁচ বছর ধরে দেখছি। নির্বাচনকালীন সরকারই নির্বাচনের যাবতীয় ব্যবস্থা করবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কার্যকরি সভাপতি সিরাজ মিয়া বলেন, সার্চ কমিটি নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে।
বিএনপি বলছে, আগের কোনো সরকারই নির্বাচন কমিশন গঠন আইনের বিষয়ে কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়নি। তবে, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াও অসাংবিধানিক বলে মনে করে তারা।
বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, যদি সার্চ কমিটি করে ইলেকশন কমিশন করতে পারেন, তবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও প্রবর্তন করা যেতে পারে।
ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধানের অপব্যাখ্যা করে যাচ্ছে বলেও দাবি দলটির।