দুই ছাত্রের মারামারির জের ধরে সিলেটের ওসমানীনগরে ছাত্রলীগ জড়িয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুন) বিকালে ওসমানীনগর থানার এসআই স্বাধীন তালুকদার বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় তাজপুর ডিগ্রি কলেজের ছাত্র উপজেলার তাজপুর ইউপির কাদিপুর গ্রামের উত্তার আলীর ছেলে তারেক মিয়া (২২), তার ভাই রাজু আহমদ (২৩) এবং একই কলেজের ছাত্র উপজেলার দিগর গয়াসপুর গ্রামের তেরাব আলীর ছেলে কবির মিয়ার (২৩) নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সিলেটের ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাইন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলার এজাহারনামীয় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুন) কলেজ ক্যাম্পাসে দুই ছাত্রের মারামারির জের ধরে বিকেলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। তাদের পক্ষ হয়ে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। প্রথমে ঘটনাটি নিষ্পত্তির পর্যায়ে ছিল। কিন্তু উভয় গ্রামের লোকজন লিপ্ত হওয়ায় ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। বেলা ২টার দিকে উভয় গ্রুপ মহাসড়কের দুইপাশে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল ৪টার দিকে উভয়পক্ষ তাজপুর বাজারে ফের সংঘর্ষে জড়িত হয়।
এসময় বেশ কিছু দোকানপাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। ফলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে যাত্রী ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহনসহ কয়েকটি রোগীবহনকারী এম্বুলেন্সও আটকা পড়ে। তাৎক্ষনিক সেনাবাহিনীর একটি টিম মাঠে নেমে রোগীবহণকারী এ্যাম্বুলেন্সগুলো যেতে সহযোগিতা করেন।
খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ফের সংঘর্ষ এড়াতে তাজপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার তাজপুর বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।