সুনামগঞ্জের নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার নেপথ্যে জলমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জের। অনুসন্ধানে মিলেছে এমনই তথ্য। গ্রামবাসীর অভিযোগ, পূর্ববিরোধ থেকে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ইস্যু বানিয়ে চালানো হয় এ হামলা। যার নেতৃত্বে ছিলেন মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম স্বাধীন। গতকাল তাকেসহ আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩০ জন।
গত বুধবার সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় দুর্বত্তরা। তখন সামনে আসে হেফাজতে ইসলামী নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জের।
তবে অনুসন্ধানে মেলে জলমহাল নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামবাসীর সাথে নাচনী গ্রামের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম স্বাধীনের পূর্ববিরোধের কথা। হামলার শিকার গ্রামবাসী জানায়, বরাম হওরের কুচাখাই বিলের ইজারাদার স্বাধীন।
জলমহালে পাম্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে পানি নিস্কাশন করে মাছ ধরাতেন তিনি। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে নানা ভয়-ভীতি দেখাতেন। ফলে নিরূপায় হয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও দেন নোয়াগাঁও গ্রামবাসী।
এরই জেরে ওইদিন ফেসবুকে মামুনুল হক নিয়ে স্ট্যাটাসকে ইস্যু করে মাইকিং করে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় হওয়া মামলায় শুক্রবার মৌলভীবাজার থেকে স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে হস্তান্তর করে পুলিশের কাছে।
এদিকে দোষীদের শাস্তি চেয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠক করেছেন, স্থানীয় আলেম-ওলামারা। এছাড়া, দেশের কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
সূত্রঃ চ্যানেল টোয়েন্টিফোর