মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পরকীয়ার জেরে হত্যার ছয় মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে তাহমিনা আক্তার ঝুমুরের লাশ। রোববার দুপুরে মাওয়া চৌরাস্তা সংলগ্ন পশ্চিম কুমারভোগ কবরস্থান থেকে লাশটি তোলা হয়।
নিহত তাহমিনা আক্তার ঝুমুর মেদিনী মন্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু নাছের লিমনের স্ত্রী। লিমন উত্তর মেদিনী মন্ডল গ্রামের ওহাব খার ছেলে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইলিয়াস শিকদারের উপস্থিতিতে লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, স্ত্রীকে হত্যার অভেযোগে শিক্ষক আবু নাছের লিমনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় অপর আসামি করা হয়েছে ওই শিক্ষকের পরকীয়া প্রেমিকা দিলরুবা আক্তারকে। মামলার পর থেকেই লিমন পলাতক।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আবু নাছের লিমন প্রায় ১৬-১৭ বছর আগে তাহমিনা আক্তার ঝুমুরকে বিয়ে করেন। ৫-৬ বছর আগে দিলরুবা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। গত বছরের ২৪ জুলাই প্রেমিকা দিলরুবাকে নিয়ে বাড়িতে আসে লিমন। ওই সময় স্ত্রী তাহমিনা তাকে চলে যেতে বললে লিমন-দিলরুবা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর কাউকে কিছু না জানিয়ে রাত আড়াইটার দিকে পশ্চিম কুমারভোগ কবরস্থানে লাশ দাফন করে।
এ ঘটনায় আদালতে এ মামলা করেন নিহত তাহমিনা আক্তার ঝুমুরের ভাই মো. কামরুজ্জামান খান।
লৌহজং থানার ওসি মো. আলমগীর হোসাইন জানান, গত মাসে মামলাটি আদালত থেকে থানায় আসে। ১০ জানুয়ারি একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহত তাহমিনা আক্তার ঝুমুরের লাশ কবর হতে তুলে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত লিমন পলাতক।