বগুড়ার ধুনটে মিথিলা খাতুন নামের এক গৃহবধূর গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইয়ামিন আলীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ মার্চ) সকালে লাশটি উদ্ধার হয়।
মিথিলার পরিবারের অভিযোগ— দীর্ঘদিন ধরে মিথিলার ওপর নির্যাতন চালাতো স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যা করে তাকে ঝুলিয়ে রেখেছে তার স্বামী।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. আশরাফ আলী জানান, সাত থেকে আট বছর আগে ইয়ামিনের সঙ্গে মিথিলার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি তাদের মধ্যে কলহ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে।
শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধুনট থানার তদন্ত (পরিদর্শক) মো. রাজ্জাকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কি হয়েছে জানি না। রাত সাড়ে ৮টার দিকে খবর আসে মিথিলা ঘরের ভেতরে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দিয়েছে। তবে আমরা যাওয়ার আগে মেয়েটির স্বামী ইয়ামিন লাশ নামিয়ে নেয়। এসময় তাদের বাড়ির আশপাশের কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত (পরিদর্শক) মো. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, মিথিলার বাবার অভিযোগ রয়েছে ইয়ামিনের পরকীয়া রয়েছে। এর আগেও কয়েকবার মিথিলাকে তারা নির্যাতন করেছে। ওই ঘটনার কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। মিথিলার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার স্বামী ইয়ামিনকে আটক করে আনা হয়েছে।
নিহতের বাবা রেজাউল করিম জানান, বিয়ের তিন বছর পর বাড়ির পাশে এক নারীর সঙ্গে ইয়ামিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয় মিথিলা। এ নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। একারণেই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।