ঘটনার শুরু ২০১১ সালে। কানিজ ফাতেমা নিজ মাতৃভূমিকে সেবা করার লক্ষ্যে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে।
তবে, ভাগ্য বুঝি অন্য কিছুই চাইছিল। ২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) প্রশিক্ষণের সময় মেরুদণ্ডের কর্ড ভেঙে কানিজের সমস্ত স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়।
ভাগ্যের এই কঠিন আঘাতও থামাতে পারেনি কানিজ ফাতেমাকে। এ ঘটনার পর কানিজের পক্ষে নিয়মিত সেনা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়লেও নির্ভীক কানিজ হাল ছাড়তে ছিলেন নারাজ।
কিন্তু, দেশের সুরক্ষার জন্য অবিচল যার মন শত প্রতিকূলতাকে কী তাকে বাধা দিতে পারে?
কানিজ ফাতেমার এই অদম্য উদ্যম ও দৃঢ়তার পুরস্কার হিসেবে তিনি ২০১৩ সালে বিশেষ বিবেচনায় পদোন্নতি পেয়েছেন।
হুইলচেয়ারে থাকা, কানিজ তার দৃঢ়তা, নিখুঁত মানসিক শক্তি এবং সহকর্মীদের সাহায্যে স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে তার সেনাবাহিনীর রুটিন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
কানিজ ফাতেমার অসাধারণ ও অনুকরণীয় সেবার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মেজর পদে পদোন্নতি দিয়েছেন।
শনিবার (৪ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনা সদরের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে কানিজ এবং তার অদম্য চেতনা ও আবেগকে সম্মান জানাতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় অনুষ্ঠানে সকল ফরমেশন কমান্ডারসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে, কানিজের গল্প, তার অর্জন, সমস্ত প্রতিকূলতা ও বাধা সত্ত্বেও প্রতিটি নারীকে আশা এবং সাহসের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে অনুপ্রাণিত করবে।