চট্টগ্রামে ১৭১ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজ-তাইজুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তৃতীয় দিন খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিরোধ। প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ২৫৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছে বাংলাদেশ।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিলো সফরকারীরা। প্রথম বলেই সাফল্য তোলে বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান এনক্রুমা বোনার (১৭)। ভাঙে ৫১ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।
পরে বাংলাদেশের পথের কাটা হয়ে ওঠা ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে বোল্ড করে দেন নাঈম হাসান। উইন্ডিজ অধিনায়ক ১১১ বলে করেন ৭৬ রান। তার ইনিংসে চারের মার ১২টি। ৪র্থ উইকেট জুটিও ফিফটি পেরোয়। আসে ৫৫ রান। ব্র্যাথওয়েটের সঙ্গে দারুণ খেলতে থাকা কাইল মেয়ার্স আউট হন ফিফটির আগে, দলের দেড়শর পর। ৪০ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হন এলবিডব্লিউ।
১৫৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ভাবা হচ্ছিলো, কতো কম রানে অল-আউট হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সেই অবস্থা থেকে দলকে লড়াইয়ে ফেরান জার্মেইন ব্ল্যাকউড এবং ডা সিলভা। ৬ষ্ঠ উইকেটে দু’জনে মিলে গড়েন ৯৯ রানের অসাধারণ এক জুটি। তাদের এই জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান। নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে দলীয় ২৫৩ রানে সাজঘরে ফেরান ডি সিলভাকে (৪২)।
সতীর্থকে হারিয়ে বেশিক্ষণ টিকেননি ব্ল্যাকউডও। দলের স্কোরবোর্ডে আর কোনো রান যোগ না হতেই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাশের গ্লাভসে বন্দী হন তিনি। ব্ল্যাকউডের ১৪১ বলে ৬৮ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিলো ৩ চার ও ১ ছয়ে। এর আগে ডি সিলভাকেও গ্লাভসে বন্দী করেন লিটন।
নতুন ব্যাটসম্যান কেমার রোচ নেমে শেষ সেশনের তৃতীয় বলেই আউট হন ডানহাতি অফস্পিনারের বলে। ডিপ মিডউইকেটে বদলি ফিল্ডার মোহাম্মদ মিথুনের ক্যাচ হন ডাক মেরে। মিরাজ তার পরের ওভারের প্রথম বলে রাকিম কর্নওয়ালকে বোল্ড করেন ২ রানে, এটি ছিল বাংলাদেশি স্পিনারের চতুর্থ উইকেট।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরির সুবাধে ৪৩০ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১০৩ রান করেন মিরাজ। সাকিব করেন ৬৮ এবং সাদমান করেন ৫৯ রান। জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় দিন ২ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২টি উইকেটই নেন মোস্তাফিজুর রহমান।
পরে তাইজুল ইসলাম ৯৭তম ওভারে জোমেল ওয়ারিকানকে বোল্ড করে সফরকারীদের গুটিয়ে দেন। বাংলাদেশের ৪৩০ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে উইন্ডিজ করে ২৫৯ রান। স্বাগতিকরা নিয়েছে ১৭১ রানের লিড