প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় এক বছরধরে বন্ধ রয়েছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী ৩০ মার্চ দেশের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশে সংক্রমণ কমে আসায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তবে আবারও দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার আবারো ঊর্ধ্বমুখি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিধান্ত পর্যালোচনা করতে ফের বৈঠকে বসছে আন্তঃমন্ত্রণালয়। শনিবার (১৩ মার্চ) তথ্য মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক, ইউজিসি কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে। সে জন্য শনিবার বিকালে তথ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়ছে। তবে এখন পর্যন্ত যেটুকু দেখছি তাতে মনে হচ্ছে, আরও দুই সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হতে পারে। তখন সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝা যাবে। তবে সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে তো আশঙ্কার কথা।
এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে নন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া খুললেও যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সীমিত আকারে খোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংবাদিককে বলেন, ১৫ মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় সেটা বিবেচনা করে একটা ঘোষণা দেব। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে আমরা।
এছাড়া স্কুল কলেজ-কলেজ খোলার সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রীসভায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনি বলেছেন, মে-জুন ও জুলাইয়ে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।