লুসাইল স্টেডিয়াম দেখলো লিওনেল মেসি শো। আর এতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হলো ক্রোয়েশিয়ার হৃদয়। মেসি গোল করলেন, করালেন, সেই সঙ্গে দলকে নিয়ে গেলেন স্বপ্নের ফাইনালে। এ জয়ে গত আসরের চরম প্রতিশোধ নেয় আর্জেন্টিনা। কাকতালীয় বিষয় গত আসর আর্জেন্টিনা এই ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরেছিল ৩-০ গোলে আজ ক্রোয়েশিয়া একই আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে ৩-০ গোলে।
অবশ্য এবারের আসরের পথচলাটা সুখকর ছিল না আর্জেন্টিনার জন্য। ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে কাতারে পা রাখে মেসিবাহিনী। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে হেরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কা জাগে। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা এখন টুর্নামেন্টের ফাইনালে।
গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকো, তৃতীয় ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এবং শেষ ষোলোর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোল জয় নিয়ে কোয়ার্টারে পা রাখে। সেখানে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। সেমিফাইনালে গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
রাশিয়া বিশ্বকাপে এই ক্রোয়েশিয়ার কাছেই গ্রুপপর্বে ৩-০ গোল পরাজিত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। তার মধুর প্রতিশোধও হয়ে গেলো। এখন অপেক্ষা ফাইনালের প্রতিপক্ষের জন্য। আজ বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) ফ্রান্স বনাম মরক্কোর মধ্যকার জয়ী দল হবে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ।
আগামী রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচটি। সরাসরি দেখা যাবে বিটিভি, গাজী টিভি, টি-স্পোর্টস ও টফিতে।
এবারের আসরটি লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তাই মেসির জন্য এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনার মিশনও ৩৬ বছর পর শিরোপা খরা কাটানোর। সবশেষ আলবিসেলেস্তেরা কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালে শিরোপা ঘরে তুলেছিল। এরপর ১৯৯০ সালে ম্যারাডোনার ও ২০১৪ সালে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ফাইনাল খেললেও প্রতিবারই জার্মানির কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়।