আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

ভেড়ামারার দৃষ্টিনন্দন ভাসমান সেতুটি দেখতে মানুষের ঢল

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়া ॥ স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে নির্মিত বাবা সোলাইমান শাহ্ ভাসমান সেতুটি দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে। সেতুটি উদ্বোধন করার পর-পরই তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। দৃষ্টিনন্দন সেতুটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ ভিড় করছে।

মঙ্গলবার থেকে ৩ দিন ব্যাপী শুরু হয়েছে আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ, মুশকিল কোশা, গঞ্জে সাফা, ছাইফুল আদব, বে-নিয়াজ হায়াতে কলন্দর, শহীদ সূফী মাওলানা হযরত বাবা সোলাইমান শাহ্ চিশতী (রঃ)-এর ৪৮ তম বার্ষিক ওরশ মোবারক। দেশ বিদেশের লাখ লাখ ভক্ত ওরশ মোবারকে অংশগ্রহণ করার লক্ষে ইতোমধ্যেই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের গোলাপনগর গ্রামের সোলাইমান শাহ (রঃ)’র মাজার শরীফে আসতে শুরু করেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লাখো ভক্ত আশেকানদের মিলন মেলায় পরিণত হবে বলে ধারন করা হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে আগত পর্যটকদের পদ্মা নদী ভ্রমনের বাড়তি আনন্দ দিতে তৈরি করা হয়েছে এই দৃষ্টিনন্দন বাবা সোলাইমান শাহ্ ভাসমান সেতুটি।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রীজের উওর পাশে মোকারিমপুর ইউনিয়নের বাবা সোলাইমান শাহ্ চিশতি (রাঃ) এর মাজারের সামনের চর গোলাপনগর ট্রলার ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীর পানির ওপর ভাসছে ৮২৫ ফুট দীর্ঘ এই ভাসমান সেতুটি। গোলাপনগর গ্রামের স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে নির্মিত বাবা সোলাইমান শাহ্ ভাসমান সেতুটি মোকারিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ উদ্বোধন করেন। এলাকার ২০ জন যুবক মিলে নিজেদের টাকায় প্লাস্টিকের ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে উক্ত ভাসমান সেতুটি নির্মাণ করেছেন। দৃষ্টিনন্দন সেতুটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ ভিড় করছে। সেতুটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৮২৫ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট চওড়া বাবা সোলাইমান শাহ্ ভাসমান সেতুটি ২০৮ টি লেবারদের পরিশ্রমে ১০০ পিচ ড্রাম ও ৭০০ পিচ বাঁশের সমন্বয়ে সেতুটি বানাতে সময় লেগেছে মাত্র ২২ দিন। প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর বাঁশ দিয়ে সেতুটি তৈরি হয়েছে। দূর্ঘটনা এড়াতে একটি নিজস্ব নৌকা সহ ভাসমান সেতু’র দুই পাশের বাঁশের রেলিং এর সাথে ১৬৫০ ফুট নেটের জাল দিয়ে শক্ত করে বাঁশের সাথে বেধে দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব জেনারেটরের মাধ্যমে সেতুটিতে রাতে লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাসমান সেতুটি পাহারা দেওয়ার জন্য ১০ জন সেচ্ছাসেবক দিন-রাত ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছে। নদী পার বাবদ টিকিটের মূল্য মাত্র ১০ টাকা।

মোকারিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বলেন, ওরশ উপলক্ষে আগত পর্যটকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে পদ্মা নদীর চরে যাওয়ার জন্য ‘নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ভাসমান সেতু নির্মাণের মতো একটি মহৎ কাজ করেছেন’। এর জন্য আমি তাঁদেরকে সাধুবাদ জানাই। ওরশ উপলক্ষে দূরদুরান্ত থেকে আগত পর্যটকরা পদ্মার চরে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রলার রিজার্ভ করে থাকে। আবার অনেক সময় দেখা যায় পদ্মার চরে পর্যটকদের নামিয়ে দিয়ে এসে পরে আর নিয়ে আসতে চাই না অতিরিক্ত ভাড়া পাওয়ার আশায়। তখন নিয়ে আশার জন্য ট্রলার মালিকগণ পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। এইসকল নানান বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়ে থাকে। পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় ২০ জন যুবক এই ভাসমান সেতু তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহন করে। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় যুবকরা যে একটি সেতু নির্মাণ করেছেন, যার জন্য প্রশংসা করতেই হয়। তবে এই সেতুটি দীর্ঘস্থায়ী নয়। মাজারের ওরশ শেষ হয়ে গেলেই সেতুটি ভেঙ্গে ফেলা হবে।

এব্যাপারে উক্ত সংগঠনের সদস্য সুমন আহম্মেদ বলেন, সেতু নির্মাণ করতে পেরে তিনিসহ তার বন্ধুরা (আয়োজক) ধন্য। ৮২৫ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট চওড়া বাবা সোলাইমান শাহ্ ভাসমান সেতুটি ২০৮ টি লেবারদের পরিশ্রমে ১০০ পিচ ড্রাম ও ৭০০ পিচ বাঁশের সমন্বয়ে সেতুটি বানাতে আমাদের সময় লেগেছে ২২ দিন। সেতুটি নির্মানে আমি সহ আমার বন্ধুগণ মোঃ জান্নাত, মোঃ আলী, মোঃ জামিরুল, মোঃ জিয়ারুল, মোঃ রহমান, মোঃ রনি, মোঃ কুদ্দুস ব্যাপারী, রুহুল আমীন, মোঃ হযরত, মোঃ তোফাজ্জল, মালেক মৃধা, মোঃ নাজিমউদ্দিন, মোঃ হোসেন, মোঃ মালেক ও মোঃ রাব্বই মিলে অর্থের যোগান দিয়েছি। আমাদের সংগঠনের বন্ধু ব্যাতীত আমরা কারোও কাছে আর্থিক সহযোগিতা নেইনি। সেতুটি নির্মাণে আমাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, সারা দেশের এবং বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত আশেকান প্রতি বছর চৈত্র মাসের ২৭, ২৮ ও ২৯ তারিখে তিন দিন সোলাইমান শাহ্ দরবার শরীফে সমবেত হন। ওরশ’কে ঘিরে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও লাখো ভক্ত আশেকানদের মিলন মেলায় পরিণত হবে গোলাপনগর দরবার শরীফ। ইতোমধ্যে মাজার এলাকায় দেশ বিদেশ থেকে কয়েক হাজার ভক্ত আশেকান মাজার শরিফে সমবেত হয়েছে। ওরশ মোবারককে ঘিরে মাজার এলাকায় ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে শতশত ষ্টল ও রকমারী দোকান। ভক্ত আশেকান ছাড়াও দর্শনাথীদের ভীড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাজার এলাকা।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।